দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঢল নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা জানাতে প্রাঙ্গণ ভরে উঠেছে।
ভোর ৬টা ৩১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর কিছু সময় পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন, এসময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে।
পরে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ওঠে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এ উপলক্ষে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্মৃতিসৌধের প্রবেশদ্বার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলে ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শিশু ও বয়স্করাও উপস্থিত ছিলেন, অনেকেই হাতে ও মুখে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকার ছবি এঁকেছেন।
এই দিনটি উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাদা ও নিয়মিত পোশাকে দায়িত্ব পালন করছে। শীত উপেক্ষা করে শহীদদের স্মরণ করতে আসেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা ও সাধারণ মানুষ।
বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুটিং ও ফ্লাই-পাস্টের আয়োজন করা হয়। ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করবে।
১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি দিন নয়; এটি বিজয়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বিজয় দিবস প্রতিটি প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার বার্তা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এবি/