দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক (গ্রেড-১৫) পদের লিখিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মিলেছে দেশ টিভির অনুসন্ধানে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও তার প্রায় তিন ঘণ্টা আগে সকাল ৭টার মধ্যে প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল থাকা একটি হাতের লেখা প্রশ্নসেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তা ছড়িয়ে পড়ে। যা আসে দেশ টিভির হাতে। যেখানে পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া যায়।
চাকরিপ্রত্যাশীরা দাবি করেন, টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁস হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
যে ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠিয়েছেন তার সঙ্গে আমদের যোগাযোগ হয়। তিনি দেশ টিভিকে জানান, ফেসবুকে ঘুরতে ঘুরতেই এটি হাতে পান এবং গুরুত্ব না দিয়েই অন্যদের কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে তিনি দেখেন, ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে গেছে।
তবে এ নিয়ে কিছুই জানে না খাদ্য অধিদপ্তর। সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সমাধানের লক্ষে ২৮ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর দ্বায়িত্ব পালনের জন্য একটি টিম গঠন করে খাদ্য অধিদপ্তর। সেই টিমের দ্বায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পরিচালক ইকবাল বাহার চৌধুরী দেশ টিভিকে জানান, আজকের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি।
এ ঘটনার পর দুর্নীতি দমন-বিষয়ক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও সিস্টেম পরিবর্তন না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধান করে পুরো চক্রকে বের করে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা আর না ঘটে।
উল্লেখ্য, ১,৭৯১টি শূন্য পদ পূরণের জন্য এই পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ৬ লাখ ১১ হাজার প্রার্থী। বিশাল পরিসরে এ পরীক্ষা পরিচালনায় খাদ্য অধিদপ্তর ৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। এত বিপুল ব্যয়ের পরও প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা সামনে আশায় সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
এদিকে, দেশ টিভিতে প্রতিবেদনের পর পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় নেওয়ার দাবি তোলে অংশ নেওয়া চাকরি প্রার্থীরা।
আরএ