দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আদালতের দেওয়া আজকের রায় সারা দেশে এবং বিশ্বের নানা স্থানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই রায় প্রমাণ করেছে যে, যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের পরিবারের জন্য এটি আংশিক হলেও ন্যায়বিচার এনে দিয়েছে।
ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিনের নিপীড়নে দুর্বল হয়ে পড়া গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের এক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে। তরুণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের আদেশ শুধু আইন ভঙ্গই নয়, রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের মৌলিক বন্ধনকে আঘাত করেছে। এমন জঘন্য কর্মকাণ্ড দেশের মৌলিক মূল্যবোধ— মর্যাদা, দৃঢ়তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার—কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি জানান, প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কোনো পরিসংখ্যান নয়— তারা ছিলেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অধিকারসম্মত নাগরিক। বিচার প্রক্রিয়ার সাক্ষ্য–প্রমাণে উঠে এসেছে কীভাবে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর স্থল ও আকাশ— এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও— প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। এই রায় তাদের ভোগান্তির স্বীকৃতি এবং অপরাধীদের জবাবদিহির নিশ্চয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।
ইউনূস বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক জবাবদিহির ধারায় ফিরছে। পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানো তরুণ–শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা যে মূল্য দিয়েছেন, তা তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, সামনে এগোতে হলে শুধু আইনি জবাবদিহিতা নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও জরুরি। কেন মানুষ সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বের জন্য জীবন পর্যন্ত ঝুঁকিতে ফেলে— সেটি বোঝা এবং সেই আস্থার উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আজকের রায় সেই পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ইউনূসের বিশ্বাস, বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার দেশে শুধু টিকে থাকবে না, আরও সুদৃঢ় হবে।
এমএস/