দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সামরিক অভিযানের মুখে প্রায় সাত লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজারের মোট ৩৩টি ক্যাম্পে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় দশ লাখে দাঁড়িয়েছে, যাদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু।
দীর্ঘ সময় ধরে শরণার্থী জীবন কাটানোর কারণে তারা এখন নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছে। যার ফলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি, অপুষ্টি, এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতিই তাদের প্রতিদিনের জীবনের বাস্তবতা।
এই বাস্তবতায় আইসিডিডিআরবি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু-বান্ধব স্যানিটেশন সুবিধা উন্নয়নে গ্রহণ করেছে এক নতুন ও উদ্ভাবনী গবেষণা পদ্ধতি-ইউজার সেন্টার্ড কমিউনিটি এংজেগ্মেন্ট বয়া ইউসিসিই । এটি এক ধরনের অংশগ্রহণমূলক গবেষণা পদ্ধতি), যেখানে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন, অভিজ্ঞতা ও মতামতকে কেন্দ্রে রাখা হয় ।
এই গবেষণার প্রধান গবেষক ডাঃ ফারজানা জাহান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যারা প্রতিদিন এই সুবিধাগুলো ব্যবহার করে, তারাই সবচেয়ে ভালো জানে তাদের প্রয়োজন ও সীমাবদ্ধতা। তাই আমরা তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকেই ভিত্তি করে পুরো নকশা তৈরি করেছি।’
ইউসিসিইপদ্ধতির শুরু হয় একটি জরিপের মাধ্যমে। প্রথমে ৩ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু এবং তাদের মা-বাবাদের কাছ থেকে জানা হয় ক্যাম্পের বিদ্যমান টয়লেটগুলোতে কী কী সমস্যা আছে এবং তারা কেমন ব্যবস্থা চান।এরপর আয়োজন করা হয় একাধিক ‘কো ক্রিয়েশন সেশন’, যেখানে শিশুরা ও তাদের অভিবাবকেরা আলাদা আলাদা সেশনে আলোচনার মাধ্যমে জানায়, তারা কেমন টয়লেট ও হাত ধোয়ার স্থানচায়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ক্যাম্প ৮ ডব্লিওএবং ১৭ তেমোট ৮০টি শিশু বান্ধবটয়লেট এবং হাত ধোয়ার স্থান তৈরি করা হয় । টয়লেটের নকশার বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়। যেমন টয়লেটের প্যান শিশুদের জন্য ছোট করা হয়, পা রাখার জায়গার উচ্চতা ও আকৃতি পাল্টানো হয়, ভেতরে দেওয়া হয় ধরার জন্য হাতল। দরজার তালাও এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেন শিশুরা সহজে খুলতে ও বন্ধ করতে পারে। গরমে ভেতরের পরিবেশ সহনীয় রাখতে ছাদে বিশেষ তাপ নিরোধক বসানো হয়।প্রতিটি টয়লেটের সঙ্গে একটি হাত ধোয়ার স্থানস্থাপন করা হয় , যা প্রাকৃতিক দুর্যোগসহিষ্ণু ও শিশুদের উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পানির ট্যাপ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শিশুরা নিজেরাই সহজে ব্যবহার করতে পারে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সহযোগী সংস্থা ভিইআরসি এর টেকনিক্যাল ফোকাল (হাইজিন) জয় চাকমা বলেন, “এই কাজের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো, এই জনগোষ্ঠীর মানুষগুলো নিজেদের আগ্রহে এতে অংশ নিয়েছেন। এর ফলে কেবল ভালো কাঠামোই তৈরি হয়নি, বরং সবার মধ্যে নিজেদের সম্পদ মনে করে সেগুলোর যত্ন নেওয়ার অনুভূতিও জন্ম নিয়েছে।”
২০১৭ সালে সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ প্রথম এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছিল। আইসিডিডিআরবি সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই পদ্ধতিটিকে আরও উন্নত করে গবেষণা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুনভাবে সাজিয়েছে।
বর্তমানে এই অংশগ্রহণমূলক গবেষণা পদ্ধতি রোহিঙ্গা কমিউনিটিতে শুধু শিশুদের স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তুলছে। এই উদ্যোগ মানবিক সংকটময় পরিবেশে জনগোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত উন্নয়ন পদ্ধতিরমডেলের একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে-গবেষণা ও উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য তখনই আসে, যখন ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও অংশগ্রহণকে গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়।
কে