দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে ১০টি প্রকল্প ও চুক্তি বাতিলের বিষয়ে এখনো কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন। সংস্থাটির মিডিয়া অফিসার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য বা বার্তা আদান-প্রদান হয়নি।
এর আগে রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়ে ছিলেন যে, হাসিনা সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০টি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তিনি একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে সেখানে চুক্তিগুলোর নাম, সইয়ের সাল এবং বাতিল বা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেন।
ওই তালিকায় ছিল ত্রিপুরা–চট্টগ্রাম রেল সংযোগ প্রকল্প, অভয়পুর–আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ, আশুগঞ্জ–আগরতলা করিডর, ফেনী নদীর পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি, ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতা প্রস্তাব, সিলেট–শিলচর সংযোগ প্রকল্প, পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (মিরসরাই ও মোংলা আইইজেড) এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি জিআরএসইর সঙ্গে টাগ বোট চুক্তি।
এছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন প্রকল্প স্থগিতের তালিকায়, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি পুনর্বিবেচনার আওতায় এবং গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন বা পুনর্বিবেচনার মধ্যে রয়েছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
চুক্তি বাতিলের প্রেক্ষাপট নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঠিক কতগুলো চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা ওয়েবসাইটে এসব তথ্য উন্মুক্ত করা হয়নি।
তবে ভারতীয় হাইকমিশনের তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে অন্তত ২০টি চুক্তি ও ৬৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের পরিধি সময়ের সঙ্গে সম্প্রসারিত হলেও চুক্তিগুলোর বিস্তারিত শর্তাবলী প্রকাশ করা হয়নি।
এমএস/