দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের ৪৮ জেলায় একযোগে তিন মাস মেয়াদি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নতুন ব্যাচের উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার (৫ অক্টোবর ২০২৫) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম।
তিনি এ প্রকল্পকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ‘সিগনেচার প্রকল্প’ আখ্যায়িত করে বলেন, এ উদ্যোগ তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১), মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব আবুল হাসান, এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম। সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্মসচিব মোঃ মানিকহার রহমান।
খুলনায় ভর্তি কার্যক্রম তদারকি করা অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, এক জেলায় ৭৫ আসনের বিপরীতে ১,০৭৩ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন, যা প্রকল্পের ব্যাপক চাহিদা নির্দেশ করে।
দেশব্যাপী ৪৮ জেলায় নতুন ব্যাচে ৩,৬০০ প্রশিক্ষণার্থী যুক্ত হয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সাবেক ও নতুন প্রশিক্ষণার্থীরা। পূর্ববর্তী ব্যাচের দুইজন তাদের সাফল্যের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, আর নতুন ব্যাচের দুইজন প্রশিক্ষণ শুরু করার অনুভূতি প্রকাশ করেন। সচিব তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে প্রশংসা করেন ও ভবিষ্যৎ সাফল্যের কামনা জানান।
প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত তিন ব্যাচে মোট ৭,২০০ জন যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন, যাদের মধ্যে ৪০% নারী। এদের মধ্যে ৪,৫৬৭ জন (৬৩%) বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তারা এ পর্যন্ত ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন।
প্রশিক্ষণ শেষে যারা আয় করতে পারছেন না, তাদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন মেন্টরিং ক্লাস চালু রেখেছে ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড’। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের দিয়ে ই-কমার্স ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করাচ্ছে। বর্তমানে ৬৪ জেলায় প্রায় ১,৬০০ জন এ কার্যক্রমে যুক্ত আছেন।
এই ব্যাচে প্রশিক্ষণের জন্য ৯২,৭৬৩ জন আবেদন করেন, যার মধ্যে ৪০,৭৫৮ জনকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ৩,৬০০ জন নির্বাচিত হন। তারা প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ পাবেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, নাস্তা-খাবারের ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং কোর্স শেষে সনদপত্র দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দক্ষ প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণ ল্যাব, পরবর্তী সাপোর্ট সিস্টেম এবং ফ্রিল্যান্সার নিয়োগের মাধ্যমে এ প্রকল্প তরুণদের জন্য একটি যুগোপযোগী কর্মসংস্থানবান্ধব উদ্যোগ হয়ে উঠেছে।
এমএস/