দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চিনির দামে লাগাম না থাকার জন্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটসহ নানা কারণ উঠে এসেছে সরকারেরই এক প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে দাম নিয়ন্ত্রণে চিনি শতভাগ প্যাকেটজাত করে বিক্রি করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)।
সংস্থাটি বলছে, দেশে প্রতিবছর ২২ থেকে ২৪ লাখ টন অপরিশোধিত চিনি ও ৫০ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়ে থাকে। অপরিশোধিত চিনি পরিশোধনের পর বাজারে আসে। বিক্রি হয় ৫০ কেজির বস্তায় ও এক কেজির প্যাকেটে। প্যাকেটজাত চিনির দাম মোড়কে লেখা থাকে, তাতে সহজে দাম বাড়িয়ে রাখতে পারেন না বিক্রেতারা।
তবে ৫০ কেজির বস্তায় ভরে যে খোলা চিনি বাজারে ছাড়া হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে দোকানিরা এক কেজির প্যাকেট করে খুচরায় বিক্রি করেন। সে ক্ষেত্রে তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম রাখেন, যা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে।
বাজারের এখন যে অবস্থা, তাতে নতুন করে প্যাকেটজাত চিনি নিয়ে আসতে গেলে খরচ আরও বেড়ে যাবে। কারণ, মোড়কজাত করতে আলাদা খরচ আছে। তাতে অস্থিরতা কমানোর যে উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা কার্যকর না-ও হতে পারে।
এদিকে দাম নিয়ে সরকারের সঙ্গে বনিবনা না হলে কোম্পানিগুলো বাজারে চিনির সরবরাহ কমিয়ে দেয়। তখন বাজারে কিছু খোলা চিনি ছাড়লেও প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহ একেবারে কমিয়ে ফেলে তারা।
বিটিটিসির মতে, বর্তমানে বাজারে ৯৫ শতাংশ চিনিই খোলা বিক্রি হয়। বাকি ৫ শতাংশ চিনি প্যাকেটজাত করে ছাড়ে কোম্পানিগুলো। এই ৫ শতাংশ চিনির প্যাকেটের গায়ে দাম উল্লেখ করে দেওয়ার কারণে কোম্পানি থেকে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে রাখতে গেলে ক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়েন বিক্রেতারা।
বিটিটিসি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে জানিয়েছে, বাজারে চিনির দাম স্থিতিশীল রাখতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক কেজির পাশাপাশি আধা কেজি, দুই ও পাঁচ কেজির প্যাকেটজাত চিনি বাজারে আনা যেতে পারে।
তিনি বলেন, আর ৫০ কেজির চিনির বস্তা শুধু করপোরেট ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে হবে। তাতে খুচরা বাজারে বস্তার চিনি ভেঙে কেজি দরে বাড়তি দামে বিক্রি করার সুযোগ থাকবে না। সরকারিভাবে চিনির যে দাম বেঁধে দেওয়া হবে, তা কার্যকর হওয়ার পরিবেশ তৈরি হবে।
এ বিষয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও দেশবন্ধু সুগার মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাজারের যে অবস্থা, তাতে নতুন করে প্যাকেটজাত চিনি নিয়ে আসতে গেলে খরচ আরও বেড়ে যাবে। কারণ, মোড়কজাত করতে আলাদা খরচ আছে।