দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাত পোহালে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব ঘিরে এরই মধ্যে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন রাজধানীবাসী। ঈদের আগের দিন বুধবার বিকেলে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরমুখো মানুষের তেমন চাপ নেই। কাউন্টারগুলোও প্রায় ফাঁকা। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার একদিন বেশি ছুটি দেওয়ায় অনেকে আগেভাগে গ্রামে চলে গেছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার এ দুদিনে বেশিরভাগ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। এ কারণে শেষ দিনে যাত্রীচাপ কম। বিভিন্ন গন্তব্যমুখী বাসগুলো যাত্রীর অপেক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের অনেকটা পরে টার্মিনাল ছেড়ে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
শুধু গাবতলী নয়, এদিন বিকেলে রাজধানীর অন্য বাস টার্মিনালগুলোতেও একই চিত্রের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া বুধবার সকাল থেকে রাজধানীতে ভারী বৃষ্টির কারণেও গণপরিবহনে যাত্রীচাপ কিছুটা কম বলে জানা গেছে। কারণ, অনেকে বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হননি। তারা হয়তো শেষ বিকেলে, সন্ধ্যায় বা রাতে ঢাকা ছাড়বেন। বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে কথা বলে জানা গেছে, রাতে ঈদযাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে।
অন্যদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, শেষ দিনেও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যদিও সে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভিন্ন কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা। যাত্রীরা জানিয়েছেন, কোনো কোনো কাউন্টারে বাড়তি ভাড়া দিয়েও মিলছে না নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট। তাদের অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
বুধবার (২৮ জুন) বিকেলে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে কথা হয় দক্ষিণবঙ্গগামী দিগন্ত পরিবহন বাসের ম্যানেজার শাহাদাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। বুধবার সকাল থেকে যাত্রীচাপ অনেকটা কম। গতকাল তাদের কোম্পানির দূরপাল্লার ৪০টি বাস টার্মিনাল ছেড়ে গেলেও আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ছেড়েছে মাত্র ১০টি বাস।
তিনি আরও বলেন, এবার ঈদের ছুটি একদিন বাড়ানোয় অনেকটা নির্বিঘ্নে আগেভাগে স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরেছেন ঢাকার মানুষেরা। এছাড়া অনেকে অগ্রিম টিকিট কিনে রেখেছেন। যে কারণে কাউন্টারের সামনে ভিড় কম। আর সকাল থেকে বৃষ্টির কারণেও যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। তবে রাতে যাত্রীচাপ কিছুটা বাড়তে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে চলাচলকারী শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের ম্যানেজার প্রভাত রায় বলেন, মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত যাত্রী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। সে কারণে গাড়ির সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। বুধবার সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী অনেক কমে গেছে। গতকালের তুলনায় আজ বাসও অনেক কম ছাড়া হয়েছে। যাত্রী কম থাকায় অনেক বাস সিট পূর্ণ হওয়ার পর ছেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে কিছুটা সিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে।
তিনি জানান, ঘরমুখো বেশিরভাগ মানুষ এরই মধ্যে ঢাকা ছেড়েছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীর পশুর হাটে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারীরা এবং নানা স্তরের ব্যবসায়ী শ্রেণির অনেকে আজ রাতে বাড়ি ফিরবেন। যাত্রী বাড়লে গাড়ির সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
এদিকে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে এসে টিকিট না পেয়ে কেউ কেউ বিকল্প পন্থায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন বলে জানা গেছে। ঈদের অগ্রিম টিকিট আগেভাগে শেষ হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এদিন দুপুরে মাগুরার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওনা দেন ডা. নাসরিন মুন। আজিমপুর থেকে বিকেলে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরেও তিনি টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। সে কারণে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
ডা. নাসরিন মুন বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ৪৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে মাগুরা যাওয়া গেলেও ঈদের কারণে এখন ৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও সরাসরি দূরপাল্লার কোনো পরিবহন পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে ভেঙে ভেঙে যেতে হবে।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বাগেরহাটে ঈদ করতে যাচ্ছেন মিজানুর রহমান। বুধবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় দুপুরে বাস টার্মিনালে যান। হানিফ এন্টারপ্রাইজ থেকে বাড়তি ভাড়ায় টিকিট সংগ্রহ করে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় এ পরিবারটিকে।
এসময় কথা হলে মিজানুর বলেন, কী করবো ভাই, বাড়ি তো যেতেই হবে। সে কারণে বাড়তি ভাড়া দিয়েই টিকিট নিয়েছি। বিকেল ৪টায় বাস ছাড়ার কথা। পাঁচটা বেজে গেছে। এখনো বাস টার্মিনালে ঢোকেনি। কাউন্টারে জিজ্ঞেস করলে বারবারই বলা হচ্ছে, কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসবে। বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের টিকিট বিক্রেতা রাহাদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি তালিকা অনুযায়ী যাত্রীদের কাছে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ মিথ্যা।