দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর ডেমরায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার পর মোল্লা কলেজে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনা মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এর আগে সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দুই পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বেলা ২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছে।
মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রায় অর্ধশত সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুলের শিক্ষার্থীকে ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের ভেতরে আটক রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে তারা লাঠিসোঁটা হাতে বের হন কবি নজরুল সরকারি কলেজের দিকে। বেলা ১১টার দিকে কবি নজরুল কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে মোল্লা কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হন এ দুই কলেজের হাজারও শিক্ষার্থী। পরে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করেন তারা।
কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘মোল্লার চামড়া, তুলে নেবো আমরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, হামলার পর মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের গেট ভাঙচুর করে ভেতরে ঢুকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ার, কম্পিউটার-ল্যাপটপ-ডকুমেন্টসহ মূল্যবান অসংখ্য জিনিস লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছেন কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ডেমরার এ কলেজটি। তবে হামলা থেকে রক্ষা পেতে কলেজের গেট বন্ধ করে দিয়েছেন মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কলেজটির বিভিন্ন সামগ্রী ও সরঞ্জাম নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শত শত শিক্ষার্থী গিয়ে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা চালায়। বেলা ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলছিল।
এর আগে, গতকাল রোববার ভুল চিকিৎসায় অভিজিৎ হাওলাদার নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগের জের ধরে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের দিনের হামলার জের ধরে আজ মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা চালানো হয়।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী বিজয় আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল মাহবুবুর রহমান কলেজের শিক্ষার্থীরা আমাদের কলেজে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। আমরা এর প্রতিশোধ নিতে এসেছি। মোল্লা কলেজে ঢুকে যা পেয়েছি, তা নিয়ে এসেছি।’
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, শুরুতে হামলাকারীরা কোনো প্রতিরোধের মুখে পড়েনি। বেলা ১টার কিছু আগে তাদের ধাওয়া দেয় মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা। তখন সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যকে দেখা গেছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
পুলিশের ওয়ারী অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের সামনে ঝামেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এখন কথা বলার মতো অবস্থাতে নেই।
কে