দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা জানাতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরে যান সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান তিনি।
সোহেল তাজের পথরোধ করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এক অপরিচিত ব্যক্তি। বুধবার (২৮ আগস্ট) রাতের এই ঘটনা সম্পর্কে জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার দপ্তরে এসেছেন তিনি।
তিনি বলেন, এই ঘটনার তদন্ত করা প্রয়োজন এবং ক্যান্টনমেন্টের জাহাঙ্গীর গেটের প্রবেশ পথের হাই রেজুলেশন ক্লোস্ড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই ধরা পড়বে কে এ মোটরসাইকেল আরোহী। সময় রাত ১০:৫০ মিনিট থেকে ১১:০০টার মধ্যে হবে। আমার গাড়ি এ সময়ের মধ্যে প্রবেশ করে এবং পেছনেই এ মোটরসাইকেল আরোহী ছিল।
তিনি আরও বলেন, আমার নিরাপত্তাজনিত কিছু বিষয় নিয়ে উপদেষ্টার কাছে এসেছি। আমি জানতে পেরেছি উপদেষ্টা এখনও পথেই আছেন৷ তিনি আসলে আমরা কথাগুলো বলবো৷ এ নিয়ে সোহেল তাজ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পোস্টও দেন। রহস্যময় ব্যক্তিরা তাকে গোপনে নজরদারিতে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
তিনি জানান, এক ব্যক্তি সংসদ ভবন এলাকা থেকে তাকে অনুসরণ করে ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত চলে আসেন। এরপর তাকে গাড়ি থামাতে বাধ্য করেন। কিছুক্ষণ পর আবার রহস্যজনকভাবে চলেও যান।
এ ঘটনায় সোহেল তাজ বেশ ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং সেনাবাহিনীর প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সোহেল তাজের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘আজকে রাতে কাজ থেকে ফেরার সময় একটি খুবই আতঙ্কজনক ও রহস্যজনক ঘটনার শিকার হই। একজন মোটরসাইকেল আরোহী আমাকে সংসদ ভবন থেকে ফলো করে ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে চলে আসে এবং একটা সময় তার বুকে লাল-নীল বাতি জ্বালিয়ে আমাকে থামতে বলে। আমি থামার পর তার পরিচয় জানতে চাই এবং আমাকে কেন থামতে বললেন তা তাকে জিজ্ঞেস করি। প্রতি উত্তরে সে আমাকে বলে যে তাদের লোক আসছে আর আমার তাদের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমি আবার তার পরিচয় জানতে চাইলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম তিনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন কিনা। জবাবে সে আমাকে বললো আমি আপনাকে চিনি-আপনি সোহেল তাজ। তারপর সে মোবাইল ফোনে বললো যে সে আমাকে থামিয়েছে এবং লোকেশন জানিয়ে আসতে বললো। আমি আবার তার পরিচয় জানতে চাইলাম এবং কারা আসছে আর কেন আমাকে থামিয়েছে জানতে চাইলাম। সে কোনো উত্তর না দিয়ে আবার ফোনে কথা বললো তারপর আমাকে বললো চলে যেতে আর সেও মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে চলে গেল।
তার কথা বলার ধরন এবং আচরণে আমি একেবারে কনফিডেন্ট সে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার লোক। এই ভাবে মানুষকে যাতে হয়রানি না করা হয় সেটাই ছিল আমাদের সবার প্রত্যাশা- এখন দেখা যাচ্ছে একই কায়দায় সব চলছে- ছি ছি। বি: দ্রষ্টব্য: এই ঘটনার তদন্ত করা প্রয়োজন এবং ক্যান্টনমেন্টের জাহাঙ্গীর গেটের প্রবেশ পথের হাই রেজুলেশন ক্লোসড সার্কিট ক্যামেরার (CCTV) ফুটেজ দেখলেই ধরা পড়বে কে এই মোটরসাইকেল আরোহী-সময় রাত ১০:৫০ মিনিট থেকে ১১:০০- আমার গাড়ি এই সময়ের মধ্যে প্রবেশ করে এবং পেছনেই এই মোটরসাইকেল আরোহী ছিল।’ উল্লেখ্য, সোহেল তাজ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ছেলে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পরই প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। একপর্যায়ে সংসদ সদস্যের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন।
অ