দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আফ্রিকার মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরে যাওয়ার পথে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জলদস্যুরা। ভারত মহাসাগর থেকে সেটি জলদস্যুরা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে সোমালীয় উপকূলের একটি বন্দরে সেটি নোঙর করেছে দস্যুরা।
সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে জিম্মি হয় জাহাজটির ২৩ নাবিক।
অনেকেই বলছেন পরিকল্পিতভাবেই ছিনতাই করা হয়েছে জাহাজটিকে। জাহাজটি ভারত মহাসাগরের যে পথ পাড়ি দিচ্ছিল তা ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ কিংবা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কোনোটিই ছিল না, এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
তবে চার কারণে বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’ ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। এমনটি মনে করেন মেরিটাইম বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, দস্যুতারোধে চিহ্নিত এলাকায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর টহল ছিল না। কম গতিতে চলছিল জাহাজটি। জাহাজের ড্রাফট (জাহাজের নিচের যে অংশ ডুবে থাকে) বেশি ছিল। ঘাটতি ছিল কাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও।
মেরিটাইম বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জলদস্যুরা নরমালি তা ট্র্যাকিং করে। যারা এগুলোর সঙ্গে জড়িত তারা জাহাজের রুট সম্পর্কে জানে এবং জাহাজকে মনিটর করে সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ করে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী বলেন, সচরাচর কম ড্রাফট আর দ্রুতগতির জাহাজ আক্রমণ করে না দস্যুরা। কিন্তু, এমভি আবদুল্লাহ ছিল বেশি ড্রাফট আর কম গতির জাহাজ। সেইসঙ্গে ছিল না বাড়তি নিরাপত্তা। ফলে জাহাজটিতে সহজেই উঠে পড়ে জলদস্যুরা।
মেরিটাইম বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলদস্যুদের ঠেকাতে এক সময় আন্তর্জাতিক বাহিনীগুলো বেশ সক্রিয় ছিল ভারত মহাসাগরে। কিন্তু, লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতার কারণে এখন সবার মনোযোগ সেদিকে। ফলে, টহল শিথিল হয়ে পড়ায় ভারত মহাসাগরে আবার বেপরোয়া সোমালিয়ান দস্যুরা।
গেল তিনমাসে ১৪টি জাহাজ ছিনতাই করে দস্যুরা। যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। নৌবাণিজ্য দপ্তরের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ মনে করেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরের দিকে এমভি আবদুল্লাহ নামে জাহাজটি সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজটিতে ৫০ হাজার টন কয়লা ছিল। অন্তত ১০০ জলদস্যু জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। মুক্তিপণের জন্য দস্যুরা জাহাজসহ নাবিকদের জিম্মি করেছে।
জেডএ