দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা হরতাল ও অবরোধকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব বাসে আগুন দেওয়ার জন্য প্রত্যেক অগ্নিসংযোগকারী পান নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক। আর আগুন দেওয়ার পরপরই অগ্নিসংযোগকারীর মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেওয়া হতো বোনাস তিন হাজার টাকা। দ্বিতীয় দফা অবরোধে এই বোনাসের পরিমাণ আরও বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট-এর (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
ঢাকা মহানগর ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পায় সিটিটিসি।
অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গ্রেপ্তাররা হলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন রকি (২৫) ও তার সহযোগী সাকিব ওরফে আরোহান (২১)। রোববার রাতে রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বোতল ভর্তি পেট্রল উদ্ধার করা হয়।
সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, ১ নভেম্বর রাজধানীর মুগদাপাড়া আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মিডলাইন বাসে কয়েকজন রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত যাত্রীবেশে উঠে আগুন দিয়ে পালানোর সময় আল আমিন নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা।
গ্রেপ্তার আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কার নেতৃত্বে কীভাবে বাসে আগুন দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) গোয়েন্দা দল আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে তিনি বেশ কিছু তথ্য দেন।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, তার (আল আমিন) নেতা মিজানুর রহমান। এই মিজানের নেতৃত্বে আরও দুজন কমলাপুর টিটিপাড়া থেকে বাসে উঠে পেছনের সিটে গিয়ে বসেন। এরপর সঙ্গে থাকা পেট্রল ঢেলে বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মিজানসহ ৩ জন পালাতে পারলেও স্থানীয়রা আল আমিনকে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে মিজানকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মিজান সিটিটিসিকে বলেন, মহানগর ছাত্রদলের একজন নেতা আমির হোসেন রকির নেতৃত্বে মিজান রাজনীতি করেন। এই রকির নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে প্রথম দফা মিডলাইন বাসসহ বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এই নেতার কাছ থেকে সব ধরনের রসদ পেয়ে চারজন বাসে আগুন দেওয়া শুরু করেন। এর বাইরেও আরও বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রথম দিনের অবরোধে মিজান এসে আল আমিনের কাছে বোতলে পেট্রল ও টাকা দেন। এ সময় মিজান তাদের আশ্বস্ত করেন যে, দল ক্ষমতায় আসছে। কোনো সমস্যা হবে না তোমরা বাস পোড়াও।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, কমলাপুরের টিটিপাড়া থেকে খিলগাঁও সড়কে চলাচল করা বাসে আগুন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাদের। প্রতিটি বাসে আগুন দেওয়ার জন্য তিন হাজার টাকা বোনাস বিকাশ করে দেয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফা অবরোধে বাসে আগুন দেওয়ার জন্য ডাবল বোনাস ঘোষণা করা হয়।
এফএইচ