দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অর্থনীতি গণতন্ত্রের না হলে রাজনৈতিক গণতন্ত্র কাজে আসে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, তথ্য না থাকলে স্বচ্ছতা আনা সম্ভব নয়, আমরা তথ্যের স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছি, আর এ লক্ষ্যে আমরা পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি।
সরকারি তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে তথ্য বা ডেটা। নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ছাড়া কার্যকর নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, পরিসংখ্যানের তথ্য হতে হবে স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও পরিমাপযোগ্য, যেন জনগণ, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকেরা এসব তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে পারেন। সরকারি তথ্যের কারসাজি করা হলে তা সরকারের নিজের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে।
আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও সরকারের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একটি নির্বাচিত সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের সমন্বয় স্বাভাবিক বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বৈষম্য চিহ্নিত করা, সমস্যার সমাধান এবং গবেষণার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, কোনো সমস্যার গভীরে যেতে হলে আগে সঠিক তথ্য জানতে হবে। অতীতের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান করতে সরকার পরিসংখ্যান ও তথ্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ডেটা সরকারের ব্যালান্স শিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করে।
তথ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার যত বেশি তথ্য উন্মুক্ত করবে, তত বেশি মানুষের মতামত ও প্রতিক্রিয়া পাবে। এতে ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং নীতিনির্ধারণে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা সহজ হবে।
আমির খসরু বলেন, গবেষক ও সাধারণ মানুষ যেন সহজে পরিসংখ্যান ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্য অনলাইনে উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য শুধু সরকারের সম্পদ নয়; গবেষক, নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য তা ব্যবহারের সুযোগ থাকতে হবে।
নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের দুর্বলতা দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ জন্য ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগ বাস্তবায়নেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন হবে।
তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সংস্থাটির জনবলসংকট ও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে সরকার অবগত। এসব সমস্যা সমাধানে এরই মধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
কে