দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক। এ জন্য শ্রমিক নেতাদের এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ কনফারেন্স রুমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড দ্রুত গঠনের বিষয়ে সভায় মালিক, শ্রমিক ও সরকারপক্ষ একমত হয়েছে।
শ্রমমন্ত্রী জানান, মালিকপক্ষ ইতোমধ্যে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করেছে। এখন শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। শ্রমিক নেতাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলা হয়েছে। তাঁদের নাম পাওয়ার পর সরকারি ছুটি না থাকলে পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনে সরকার উদ্যোগ নেওয়ার পর এ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো কারণ থাকার কথা নয়। ত্রিপক্ষীয় সভার আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকদের মধ্যে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
যেসব কারখানায় শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রয়েছে, সেসব কারখানার শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বকেয়া মজুরি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে পরিস্থিতি জটিল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষের বাইরে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকদের বিষয়ে শ্রমিক ও তাঁদের নেতারা কথা বলবেন, আর মালিকেরা নিজ নিজ সংগঠনের মাধ্যমে আলোচনা করবেন। এর বাইরে কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
কারখানাভিত্তিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কারখানার মধ্যেই আলোচনার আহ্বান জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, কোনো কারখানায় সমস্যা হলে সরকার, মালিকপক্ষের সংগঠন ও শ্রমিক নেতারা সেখানে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবেন। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের কল্যাণে প্রয়োজনে দিনরাত আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পকারখানা সচল রাখা জরুরি। শিল্প খাতে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকলে শ্রমিকদের বেতন ও মজুরি নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রয়োজন কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এমএম/