দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামী রোববার (১ নভেম্বর) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন ও চার মাসের বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবার বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না। তাঁদের আপাতত পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। নতুন কাঠামোর বকেয়া অর্থ পরে পরিশোধ করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকেরই নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সবার জন্য বর্ধিত বেতন কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জটিলতা নিরসনে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হলেও গত সোমবার পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। অর্থ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও একাধিক মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে ১ নভেম্বরের আগে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে মূল বেতন, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে বিভিন্ন অসংগতি দেখা দিয়েছে। কোথাও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে জুনিয়র কর্মকর্তা বেশি বেতন পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও পদোন্নতির পর মোট আয় কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে অর্থ বিভাগে আবেদন করেও সুরাহা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে পারেননি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++-এর কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা।
অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও জানাশোনার ঘাটতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। প্রারম্ভিক বেতনে ১১তম গ্রেড এগিয়ে থাকলেও নতুন নিয়মে বেতন নির্ধারণের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১২তম গ্রেডের কর্মচারী বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে গ্রেডভিত্তিক বেতনের স্বাভাবিক ক্রম নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পদোন্নতির পর বাড়িভাড়া ভাতার হিসাবেও অসংগতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মচারীরা। তাঁদের উদাহরণ অনুযায়ী, দশম গ্রেডে ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা মূল বেতনের বিপরীতে ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা। কিন্তু নবম গ্রেডে পদোন্নতির পর মূল বেতন ৫১ হাজার টাকা হলেও ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা দাঁড়ায় ২২ হাজার ৯৫০ টাকা। এতে মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমে যায় ১ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা মিলিয়ে মোট অর্থ কমে যায় ৬০০ টাকা।
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের আশঙ্কা, নিয়মের অস্পষ্টতার কারণে একই পদে কর্মরত জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের বেতন সমান হয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের ধাপের কারণে জুনিয়র কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে বেশি বেতন পেতে পারেন।
কর্মচারীদের অভিযোগ, আইবাস++ ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে না পারায় অনেকেই আপাতত নতুন কাঠামোর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, বেতন নির্ধারণের নিয়ম, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব পুনরায় পর্যালোচনা করে অসংগতি দূর করতে হবে।
তবে যাঁদের নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে না, তাঁরা কবে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ পাবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।
এমএম/