দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৫০ হাজার এনএস১ (NS1) টেস্ট কিট, ৭০ হাজার ব্যাগ নরমাল স্যালাইন, ১৫ হাজার ব্যাগ বেবি স্যালাইন ও স্যালাইন সেট দিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)। এ ছাড়া ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা জোরদার করতে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আরও ৫ হাজার ব্যাগ নরমাল স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব চিকিৎসাসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। বিডিআরসিএসের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ এবং হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. নাসিরউদ্দীন পনীরের হাতে চিকিৎসাসামগ্রী তুলে দেন।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের (আইএফআরসি) ডিসাস্টার রেসপন্স ইমার্জেন্সি ফান্ড (ডিআরইএফ) এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে বিডিআরসিএসের চলমান ডেঙ্গু মোকাবিলা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন ৩৪৮ জন। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপরও চাপ বাড়ছে।
অনুষ্ঠানে বিডিআরসিএসের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ, মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং অসচ্ছল পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রেড ক্রিসেন্ট। ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান প্রভাব পরিবার ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা এবং ধারাবাহিক জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয়। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা এবং চিকিৎসার ব্যয় ও আয় বন্ধ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসচ্ছল পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এর মানবিক প্রভাব কমাতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, সাধারণ মানুষ এবং সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিডিআরসিএস জানিয়েছে, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের দেশব্যাপী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লিফলেট বিতরণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং কমিউনিটি পর্যায়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ চলছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি বছরের শুরুর দিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার আগেই সরকারকে ৪০ হাজার ডেঙ্গু টেস্ট কিট দেওয়া হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে আইএফআরসির বাংলাদেশ হেড অব ডেলিগেশন সেভাল গুজেলকিলিনচ, বিডিআরসিএসের মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, উপমহাসচিব মো. এহছান-ই-এলাহী, পরিচালক (স্বাস্থ্য ও ফান্ড রেইজিং—অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এস. এম. হুমায়ুন কবীর (অব.), পরিচালক (এইচআর ও প্রশাসন) এএসএম মামুনুর রহমান খলিলী, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কে. এম. মজিবুল হক, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. নাসির উদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএস/