দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সবার কথা বাদ দিয়ে অন্তত নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও শহর গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।
ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তারা এ সমস্যা সমাধানের সঙ্গে জড়িত। পরিবর্তন আনতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু চেষ্টা অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সদিচ্ছা থাকতে হবে।
কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, তিনি যখন যেখানে যান, সেখানকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করে জানান। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে পদক্ষেপ নিলে পরিবর্তন সম্ভব।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও ময়লা-আবর্জনা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে।
তিনি বলেন, বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে দেশে ফিরে অনেকেরই মনে হয়, বাংলাদেশের শহরগুলোও যদি এমন হতো। কিন্তু শুধু আফসোস করে বসে থাকলে হবে না; নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।
ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেন। ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা জানান, শহরের পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ওই কর্মকর্তা অনেক পরিবর্তন হয়েছে বলেননি, বরং কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ পরিবর্তন সম্ভব। সবাই মিলে চেষ্টা করলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি করা যাবে।
নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মসমালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তার সমালোচনা করা যেতে পারে। তবে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও আত্মসমালোচনা করতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে কতটা চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ডিএসসিসি নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস ও বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। এসব তথ্য পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার প্রক্রিয়া নিয়েও খোঁজখবর নেন।
এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ডিএসসিসির নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও চিত্রও দেখেন তিনি।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
যে আই