দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কৃষিপণ্যে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদিত খাদ্যের গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে খাদ্যের অভাবের চেয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যের অভাব বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। কৃষিপণ্যে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিপণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।’
কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্যের মান বজায় রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম পান এবং পণ্যের গুণগত মানও নিশ্চিত হয়।
দেশের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশে সারা বছর ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। দেশের মাটিও কৃষির জন্য অত্যন্ত উর্বর। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যতটা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব ছিল, দেশ ততটা এগোতে পারেনি। কৃষিনীতি ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো ভুল থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সংশোধন করতে হবে।
কৃষিপণ্যে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সবজি সংগ্রহের কয়েক দিন আগেও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। অথচ কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নিরাপদ মাত্রায় নেমে আসতে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। এভাবে উৎপাদিত খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে খাদ্যকে মানুষের অসুস্থতার কারণ হতে দেওয়া যাবে না।
কৃষিকে লাভজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণদের কৃষিতে ফিরে আসা আশাব্যঞ্জক। এ খাতে ভালো কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করা গেলে আরও তরুণ কৃষিকাজে যুক্ত হবেন।
কৃষিবিজ্ঞানীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাতে হবে। সীমিত জমিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সঙ্গে খাদ্যের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া জিনগত পরিবর্তন ছাড়াও উৎপাদনশীলতা ও মান বাড়ানোর বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
এমএম/