দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ডের জন্য দেশব্যাপী পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সাড়ে ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ পরিবার এ কার্ডের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে যোগ্য সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে চায় সরকার। হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাইকে কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে উপকারভোগী নির্ধারণ করা হবে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের গ্রেডিং করা হবে, যাতে তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনে ভুলভ্রান্তি কমানো যায়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী কার্যক্রম শুরুর আগে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের পাইলটিং সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনে সম্ভাব্য ত্রুটি যাচাই করা হয়েছে। ত্রুটির হার কোনো ক্ষেত্রেই ২ থেকে ৩ শতাংশ ছাড়ায়নি। চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো যোগ্য পরিবার যাতে বাদ না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রাখা হয়নি বলে দাবি করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনের কাজে কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিকে রাখা হয়নি। ইউএনএর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো কোনো জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি ঘটনা ঘটলেও সবার সহযোগিতায় সেগুলো পদ্ধতিগতভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহে রাজনৈতিক কারসাজির সুযোগ নেই, কারণ এটি একটি সর্বজনীন কর্মসূচি। কাউকে অন্যায়ভাবে সুবিধা দেওয়া কিংবা বঞ্চিত করার সুযোগ রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো সব হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা। কাউকে দৌড়াদৌড়ি করে সুবিধা আদায় করতে হবে না। একইভাবে কাউকে বঞ্চিত করারও সুযোগ থাকবে না।
ফ্যামিলি কার্ডের ডেটাবেইসে সংরক্ষিত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিস্তর সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে উপকারভোগী নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ভুলভ্রান্তি কমাতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় গ্রেডিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবারের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে, যাতে ব্যক্তিগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপের পরিবর্তে নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা যায়।
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের যোগ্য হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জে আই