দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশামুক্ত করতে কাজ করছে সরকার। একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, নিয়মিত জোরালো অভিযান, জরিমানা ও যান জব্দ করা সত্ত্বেও থামানো যাচ্ছে না অটোরিকশার দাপট।
ট্রাফিক পুলিশ প্রধান সড়কের প্রবেশমুখগুলোতে তৎপর থাকলেও চালকেরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অন্য কোনো পয়েন্ট ব্যবহার করে ঠিকই মূল সড়কে উঠে পড়ছেন। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও যানজট কমাতে প্রশাসনের প্রচেষ্টা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ব্যস্ত ও দ্রুতগতির প্রধান সড়কগুলোতে প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের এই বেপরোয়া চলাচল প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানীর মিন্টো রোডে এমনই এক অটোরিকশার কাচ ভেঙে মাথায় আঘাত লেগে এক চালকের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া প্রাইভেট কার বা মোটরসাইকেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অটোরিকশার যত্রতত্র লেন পরিবর্তন ও যাত্রী ওঠানামার কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অটোরিকশা কেবল অভ্যন্তরীণ সড়ক ও গলিতে চলার কথা থাকলেও চালকদের দাবি, গলিগুলোতে যাত্রী কম থাকায় তাদের আয় অনেক কমে যায়। তাই বেশি আয়ের আশায় ও যাত্রী চাহিদার কারণে বাধ্য হয়ে তারা প্রধান সড়কে ওঠেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক ও সভাপতি মো. আবু বক্কর জানান, এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশাল জনগোষ্ঠীর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সিদ্ধান্ত নিলে সুফল পাওয়া কঠিন। তারা পুরো ঢাকাকে ছোট ছোট অনেক ভাগে ভাগ না করে দুই সিটি করপোরেশনের এলাকাকে বড় দুটি ভাগে বা জোনে ভাগ করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ যাত্রীদের বারবার রিকশা পরিবর্তন করতে না হয়।
সম্প্রতি সরকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে গাড়ি চার্জ করার গ্যারেজগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে শুরু করেছে। এর প্রতিবাদে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে অটোরিকশা চালকেরা জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ ঢাকার আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তাদের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া হুট করে এমন সিদ্ধান্ত তাদের জীবিকাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। ডিএনসিসি প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে একটি অটোরিকশা ঢাকা থেকে দূরবর্তী জেলাগুলোতেও যাতায়াত করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। এ কারণে ঢাকাকে মোট ৮টি জোনে বিভক্ত করার কাজ চলছে। নতুন এই জোনভিত্তিক নিয়মে এক জোনের অটোরিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রতিটি জোনের চাহিদা বিবেচনা করে অটোরিকশার সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে, যাতে ঢাকার বাইরে থেকে এসে কেউ রাজধানীতে যানজট তৈরি করতে না পারে।
একই সাথে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশিকা তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দ্রুতই কার্যকর করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, আমরা বড় সড়কে উঠতে চাই না। সিটি করপোরেশন যদি আটটি ভাগে ভাগ করে দেয়, তাহলে এক রাস্তা পার হয়ে অন্য রিকশায় উঠতে হবে। মানুষের সঙ্গে ব্যাগ-বস্তা থাকতে পারে, বাজারের ব্যাগ থাকতে পারে। এক রিকশা থেকে নেমে আরেক রিকশায় ওঠা কি সম্ভব? আমরা বলেছি, এভাবে না করে দুই সিটি করপোরেশনের এলাকা দুই ভাগে ভাগ করে দেয়া হোক।
সংগঠনটির সভাপতি মো. আবু বক্কর বলেন, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের এত বড় একটি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অন্তত বসে আলোচনা করা উচিত ছিল।
অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে অভিযান চালানোর পাশাপাশি অনুমোদনহীন যানবাহন তৈরির উৎস বন্ধ করতে হবে। উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ধীরে ধীরে সড়কে এসব যানবাহনের সংখ্যাও কমানো সম্ভব হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী সাইফুর নেওয়াজ বলেন, উৎস থেকেই এসব নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া উচিত, যাতে সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা কমে আসে। সড়কে এসব যান কমে গেলে পুলিশের পক্ষেও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। এখন ইচ্ছেমতো এসব যান তৈরি করা যাচ্ছে, ইচ্ছেমতো ব্যাটারি আমদানি হচ্ছে। ফলে পুলিশ ও অটোরিকশাচালকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এভাবে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। উৎস থেকেই এটি বন্ধ করতে হবে।
কে