দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বরের আগে ভারতের সঙ্গে নতুন গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে ২০২৭ সালের মধ্যে মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট। এসব প্রকল্পের সুফল দেশের মোট অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পাবে। পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছেন তারা।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিস্তা খরস্রোতা নদী এবং ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটি এলাকায় আসে, তা দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ প্রকল্প নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও বৈঠক করে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, খুব শিগগিরই তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নিতে হবে। সেই স্টাডির ভিত্তিতেই প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা হবে। এটি শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব কাজ শেষ করে একই বছরে মূল কাজ শুরু করার দিকে সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে।
গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছরের চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হবে। ১৯৭৭ সালে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। পরে ১৯৯৬ সালে ওই ক্লজ বাদ দিয়ে চুক্তি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করা হয়।
তিনি বলেন, ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন চুক্তি করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকের ভিত্তিতে তারা আশাবাদী, ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে। এতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের মূল অগ্রাধিকার থাকবে।
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা আছে কি না জানতে চাইলে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ও তিস্তার পাড়ের মানুষ বাংলাদেশেরই নাগরিক। দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। সেই চাপ ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
পদ্মা ব্যারাজের কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পটির স্টাডি সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে সরকার এটি চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছে।
তিস্তার মতো মেগা প্রকল্পের স্টাডি রাতারাতি বা এক-দুই মাসে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ শেষ করেননি। তাই সরকার নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দিতে চায়।
এমএম/