দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ধাপভিত্তিক নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বাজেট-বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে গাইবান্ধাবাসী তথা দেশবাসীকে জানাতে চাই, নির্বাচনের কোনো অনিয়ম বা কলঙ্কের দায় বিএনপি সরকার কিংবা তারেক রহমান নিজের ঘাড়ে নেবেন না। আগামী দিনে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন যেন সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও দল নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’
প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘এ নির্বাচনগুলোকে সর্বসাধারণের কাছে শতভাগ গ্রহণযোগ্য করতে যদি সেনা মোতায়েন করতে হয়, তবে সরকার সেনা মোতায়েন করবে। তবুও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।’
বিগত সরকারের স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ২০ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকার অবাধ নির্বাচন ছাড়া এবং রাতের ভোটের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলায় যাদের নির্বাচিত দেখিয়েছে, তারা জেলার উন্নয়নে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। এটি একটি অবহেলিত জেলা। এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বড় ধরনের কাজের প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে আগেই গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের রুফটপ সোলার প্যানেল মহাপরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট পেয়েছি। এ সংকট কাটাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে সোলার প্যানেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর নেট মিটারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিলে সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পরিশোধ করবে।’
তিনি জানান, স্থানীয় সরকারভুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, গ্রামীণ হাট-বাজার, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং এসব প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন ডাকবাংলো, অডিটোরিয়াম ও কমিউনিটি সেন্টারের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক উন্নয়ন বৈষম্য ও চরাঞ্চলের উন্নয়ন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে দেশের ৬৪ জেলাতেই সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রিসভার ৩০ জন মন্ত্রীকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মাইনুল হাসান সাদিক, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুলসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে মীর শাহে আলম স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে পূর্বনির্ধারিত সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেন।
এমএম/