দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি প্রকল্পে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা হলেন আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মওদুদ।
সম্প্রতি একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে চার কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) ড. মো. মনজুরুল ইসলামকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ সালাহ্ উদ্দিন এবং পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক (উপসচিব) নিশাত জাহান।
অভিযোগের বিষয়ে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদক অনুসন্ধান করে একাধিক মামলা করেছে। এর মধ্যে আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মওদুদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। দুদকের সংশোধিত চিঠি ও মামলার নথি অনুযায়ী, দুটি মামলাই তদন্তাধীন।

দুদকের নথি অনুযায়ী, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে করা মামলায় আমিনুল হাসিবকে ৯ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় মওদুদ ৯ নম্বর আসামি। দুটি মামলাই ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি করা হয় এবং দুদকের মানিলন্ডারিং শাখায় তদন্ত চলছে।
এদিকে চলতি বছরের ১১ মার্চ দুদকের একটি চিঠিতে আমিনুল হাসিব ও মওদুদ রহমানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে ওই চিঠি প্রতিস্থাপন করে সংশোধিত চিঠি দেওয়া হয়। সংশোধিত চিঠিতে দুজনের বিরুদ্ধে করা মামলার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, সেগুলো তদন্তাধীন।
এর আগে আমিনুল হাসিবকে ২০১৯ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি বেবিচকের সিভিল সার্কেল প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান। মওদুদ বর্তমানে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং মামলা থাকা সত্ত্বেও দায়মুক্তির চিঠির সুযোগ নিয়ে পদোন্নতি নেওয়া। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া।
নতুন তদন্ত কমিটি এখন অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
এমএম/