দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দরদাতাকে কাজ দেওয়া এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে। পরে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন দুদক কর্মকর্তারা।
অভিযানকালে ওয়াশ ব্লক ও পানির ট্যাংক নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া, দরপত্র মূল্যায়ন, কাজের আদেশ, কাজ সমাপ্তির সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করা হয়। এ সময় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া কিছু নথিপত্র উপস্থাপন করলেও চাওয়া সব কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ বলেন, ওয়াশ ব্লক নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। প্রথমবারের দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা ছাড়াই পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। দ্বিতীয়বারের দরপত্রেও সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ওয়াশ ব্লক নির্মাণে নির্ধারিত কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে।
দুদকের এই কর্মকর্তা আরও জানান, রাঙামাটিতে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি পানির ট্যাংক নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা বেশি দর দেওয়া দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
মামুনুর রশিদ বলেন, দরপত্রসংক্রান্ত নথি, সর্বনিম্ন দরদাতার দরপত্র, দরপত্র মূল্যায়নসংক্রান্ত কাগজপত্র ও কাজ সমাপ্তির সনদসহ প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। নথিপত্র পর্যালোচনা এবং প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনের পর অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, তা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, সব নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে অনুসন্ধান বা মামলা করা হবে কি না।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া। তিনি বলেন, দুদক কর্মকর্তারা হঠাৎ অভিযান পরিচালনা করায় প্রকল্পের ফাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুঁজে বের করতে কিছুটা সময় লেগেছে। চাওয়া নথিপত্র ধাপে ধাপে দুদককে দেওয়া হচ্ছে।
পরাগ বড়ুয়া বলেন, ই-জিপি ও একক দরপত্র পদ্ধতির দরপত্র প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দরদাতা এবং কে গ্রহণযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য, এসব বিষয় নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। ফলে অনিয়মের সুযোগ নেই। দুদককে দেওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করলেই বিষয়টির প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অভিযানকালে দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক আবু ছাদেক, উপসহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ, উপসহকারী পরিচালক ছরওয়ার হোসেন ও উপপরিদর্শক সাজিবুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।
যে আই