দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম এবং আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমানসহ আলোচিত বেশ কয়েকজন প্রার্থী। বিদ্যমান নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ (৮ ভাগের ১ ভাগ) ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবার প্রার্থী হওয়ার সময় প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দিতে হয়েছিল, যা ফেরতযোগ্য হবে না।
বগুড়া-২: মান্নার ভরাডুবি
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ‘কেটলী’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৬ ভোট। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২টি (ভোটের হার ৭২.৬৩ শতাংশ)। জামানত রক্ষায় তার প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩০ হাজার ৪৭৬ ভোট। কিন্তু তিনি পেয়েছেন মোট বৈধ ভোটের মাত্র ১.৪ শতাংশ।
ঢাকা-১২: বাতিল ভোটের চেয়েও কম তারেকের প্রাপ্তি
ঢাকা-১২ আসনে ‘প্রজাপতি’ প্রতীক নিয়ে লড়েন মো. তারেক রহমান। তিনি পান ১ হাজার ৪৪ ভোট। এ আসনে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৮টি (ভোটের হার ৩৭.৪২ শতাংশ)। উল্লেখযোগ্যভাবে, এখানে বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৪৪টি—অর্থাৎ বাতিল ভোটের চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন তিনি।
একই আসনে ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী তাসলিমা আখতার পান ১ হাজার ৫১১ ভোট, যা জামানত রক্ষার জন্য যথেষ্ট হয়নি।
ঢাকা-৮ ও নেত্রকোনা-৪: মেঘনা ও জলির জামানত বাজেয়াপ্ত
ঢাকা-৮ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে ‘ট্রাক’ প্রতীকে নির্বাচন করেন মেঘনা আলম। তিনি মোট ৬০৮ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জলি তালুকদার ‘কাস্তে’ প্রতীকে পান ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট, যা জামানত রক্ষার শর্ত পূরণে ব্যর্থ।
চট্টগ্রাম-৮: তিন প্রার্থীর একসঙ্গে জামানত হারানো
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে তিন প্রার্থী একযোগে জামানত হারিয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন ২ হাজার ৯০৬ ভোট, যা মোট ভোটের ০.৫২ শতাংশ। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আলম পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৮ ভোট এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক পেয়েছেন ৮৭০ ভোট। এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলোচিত এসব প্রার্থীর বড় একটি অংশই ন্যূনতম জনসমর্থন প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন, যার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট পেপারে। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত ভোট না পাওয়ায় তাদের জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
/অ