দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের গোড়া কেটে দিতে চাই। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যারা এসব অপকর্ম ছেড়ে সৎপথে ফিরে আসবে, তারা সম্মানের সাথেই বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন একটি বড় পরিবর্তন চায়। ১২ তারিখের পর যে পরিবর্তন আসবে, তা আসবে যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষা, মায়েদের নিরাপত্তার দাবি এবং গোটা দেশের ইজ্জতের উপর ভর করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগামীর বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ কিংবা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দলীয় শাসন কায়েম করতে চায় না। শুধু জামায়াতের বিজয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এগারো দলীয় জোটের এই বিজয় হবে সবার সম্মিলিত বিজয়। যেখানে যে প্রতীক থাকবে, সেই প্রতীকের পক্ষেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, অতীতের খাতা এক পাশে রেখে বর্তমান বিবেচনা করলে জনগণের সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হবে না। যারা মানুষের সম্পদ, জীবন ও সম্মানে আঘাত করেছে, যারা মায়েদের ইজ্জতে হাত দিয়েছে তাদের হাতে কি দেশের মায়েরা নিরাপদ থাকতে পারে, এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি বলেন, মা ও বোনেরা এখন এগারো দলীয় জোটকে আস্থার ঠিকানা হিসেবে দেখছে বলেই একটি মহল অস্থির হয়ে উঠেছে। কোনো মা-বোনের গায়ে হাত দেওয়া হলে, জুলাইয়ে যেভাবে যুবসমাজ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, প্রয়োজনে আবারও তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক তার জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের পূর্ণ নিরাপত্তা ভোগ করবে। সবাই হালাল রুজির মাধ্যমে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকবে। যারা আজ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারাও একসময় মজলুম ছিলেন, এখন কেন জালিম হলেন?” অপকর্ম ছেড়ে সংশোধিত হলে বুকে টেনে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারি চাকরিজীবীদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বেতনে অনেকেরই চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে একটি জনকল্যাণমূলক সরকার গঠন করা হবে এবং মানুষের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কওমি মাদ্রাসা প্রসঙ্গে প্রচলিত গুজব নাকচ করে তিনি বলেন, কওমি অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব মামুনুল হক আমাদের পাশে রয়েছেন। কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করার প্রশ্নই আসে না, বরং এর উৎকর্ষ সাধনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
যুবসমাজের ভূমিকা তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, যুবকরা বেকার ভাতার জন্য যুদ্ধ করেনি; তারা অধিকার আদায়ের জন্য বুক পেতে দিয়েছিল। বেকার ভাতার গল্প শোনানোর সময় শেষ, এখন যুবকদের হাতে হাতে সম্মানের কাজ তুলে দেওয়ার সময়। আগামীর বাংলাদেশ হবে তারুণ্যনির্ভর ও যৌবনদীপ্ত বাংলাদেশ।
ক্ষমতায় গেলে সহযোগিতার শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ার বাজার লুট বা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা যাবে না। সবার জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচার ব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলবে না। জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ দেশে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে এবং কেউ কারও ধর্ম পালনে বাধা দিতে পারবে না। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথাও জানান তিনি।
জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, মাওলানা আবদুল হালিম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান এডভোকেটসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জে আই