দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চুল পড়ার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে পরীক্ষাধীন একটি ওষুধ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভেরাডার্মিকসের তৈরি ভিডিপিএইচএল০১ নামের ওষুধটির পুরুষদের ওপর চালানো দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। তবে ওষুধটি এখনো অনুমোদন পায়নি।
বংশগত চুল পড়ার ক্ষেত্রে চুলের গোড়া ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যায়। এতে চুল পাতলা ও ছোট হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৫ কোটি পুরুষ ও ৩ কোটি নারী এ সমস্যায় ভুগছেন। প্রায় তিন দশক ধরে এ সমস্যার চিকিৎসায় নতুন কোনো অনুমোদিত ওষুধ আসেনি।
ভিডিপিএইচএল০১ মূলত মুখে খাওয়ার মিনোক্সিডিলের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর সংস্করণ। মিনোক্সিডিল প্রথমে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় তৈরি করা হলেও পরে এর চুল গজানোর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। চুল পড়ার চিকিৎসায় এটি ত্বকে ব্যবহারের জন্যও তৈরি করা হয়েছে। নতুন ওষুধটির বিশেষত্ব হলো, এতে মিনোক্সিডিল ধীরে ধীরে শরীরে ছাড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত পুরুষদের পরীক্ষায় ৫১৯ জন হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বংশগত চুল পড়ায় আক্রান্ত পুরুষ অংশ নেন। তাদের একদল দিনে একবার, আরেকদল দিনে দুবার ভিডিপিএইচএল০১ নেন এবং তৃতীয় দলকে প্লাসিবো দেওয়া হয়। ছয় মাস পর দিনে একবার ওষুধ নেওয়া দলের চিকিৎসাধীন অংশে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে গড়ে ৩০ দশমিক ৩টি চুল বেড়েছে। দিনে দুবার নেওয়া দলের ক্ষেত্রে বেড়েছে ৩৩টি চুল। প্লাসিবো নেওয়া দলের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছিল ৭ দশমিক ৩টি।
চুলের আবরণে উন্নতির কথাও জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। দিনে একবার ওষুধ নেওয়া দলের ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং দিনে দুবার নেওয়া দলের ৮৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী চুলের আবরণে উন্নতির কথা জানিয়েছেন। প্লাসিবো নেওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
নারীদের ওপর চালানো দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষাতেও ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, দিনে একবার ভিডিপিএইচএল০১ নেওয়া নারীদের ক্ষেত্রে ছয় মাসে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে গড়ে ২২ দশমিক ৭টি এবং দিনে দুবার নেওয়া দলের ক্ষেত্রে ২৩ দশমিক ৩টি চুল বেড়েছে। দুই দলের যথাক্রমে ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ ও ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী চুলের আবরণে উন্নতি বা উল্লেখযোগ্য উন্নতির কথা জানিয়েছেন।
তবে ওষুধটির সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রাখতে হবে। মুখে খাওয়ার মিনোক্সিডিলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং শরীরের অন্য অংশে অনাকাঙ্ক্ষিত চুল গজানোর মতো সমস্যা হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ও শরীরে তরল জমার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
চুল পড়ার চিকিৎসায় নতুন ওষুধের এই অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করছে। ভেরাডার্মিকসের পাশাপাশি অ্যাবসি ও কসমোর মতো প্রতিষ্ঠানও নতুন চিকিৎসা তৈরি করছে। কসমোর তৈরি ক্লাসকোটেরন চুলের গোড়ায় হরমোনের কার্যক্রম আটকে দেওয়ার পদ্ধতিতে কাজ করে। অন্যদিকে অ্যাবসির পরীক্ষাধীন এবিএস-২০১ ভিন্ন ধরনের জৈবিক পদ্ধতিতে কাজ করা একটি ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসা।
নতুন চুল পড়ার ওষুধকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে এগুলোর সঙ্গে স্থূলতা কমানোর ওষুধ ওজেম্পিকের তুলনাও করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ তুলনা সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ স্থূলতার চিকিৎসায় শক্তিশালী জৈবিক প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে উল্লেখযোগ্য ওজন কমানোর ফল দিয়েছে। চুল পড়ার নতুন ওষুধগুলো এখনো সেই ধরনের বৈজ্ঞানিক সাফল্য দেখিয়েছে—এমন প্রমাণ নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিডিপিএইচএল০১ এখনো পরীক্ষাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি চুল পড়ার অনুমোদিত চিকিৎসা নয়। ফলে পরীক্ষার ইতিবাচক ফল নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষার ফল এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে।
/অ