দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আয়না আমাদের প্রতিদিনের জীবনের খুব পরিচিত একটি বস্তু। নিজের চেহারা দেখা, পোশাক ঠিক করা কিংবা চুল আঁচড়ানোর মতো কাজে প্রতিদিনই এর সামনে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু কখনো যদি আয়নার দিকে কয়েক সেকেন্ড বা তারও বেশি সময় একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকেন, তখন নিজের চেহারাতেই অদ্ভুত কিছু পরিবর্তন দেখতে পারেন। মনে হতে পারে মুখের কোনো অংশ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো মুখের বিভিন্ন অংশ বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়ে উঠছে।
বিষয়টি কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানে পরিচিত একটি দৃষ্টিবিভ্রম, যার নাম ‘ট্রক্সলার প্রভাব’। আয়নার একটি নির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘ সময় দৃষ্টি স্থির রাখলে মস্তিষ্ক আশপাশের দৃশ্যমান উদ্দীপনাগুলোর প্রতি সংবেদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে দৃষ্টির প্রান্তবর্তী অংশের কিছু বিষয় চোখের সামনে থেকেই ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে বা অন্য কিছুর সঙ্গে মিশে যেতে দেখা যায়।
‘ট্রক্সলার প্রভাব’ বা ‘ট্রক্সলার ফেডিং’ নামে পরিচিত এই ঘটনাটি উনিশ শতকের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের দার্শনিক ও চিকিৎসক ইগনাজ ট্রক্সলার আবিষ্কার করেন। তার নাম অনুসারেই এই দৃষ্টিবিভ্রমের নামকরণ করা হয়েছে।
আয়নার ক্ষেত্রে ঘটনাটি আরও অদ্ভুত মনে হতে পারে। সাধারণত আয়নার দিকে তাকানোর সময় কেউ একই বিন্দুর দিকে টানা কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিট তাকিয়ে থাকেন না। কিন্তু এভাবে দৃষ্টি স্থির রাখলে মুখের কোনো অংশ ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে বা মুখের বিভিন্ন অংশ একে অপরের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। কখনো পুরো মুখের আকৃতিও বিকৃত দেখাতে পারে। মস্তিষ্কের তৈরি এই বিভ্রম কিছু ক্ষেত্রে ভয়ংকর বা অস্বাভাবিক চেহারার মতোও মনে হতে পারে।
তবে এর জন্য আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এটি একটি সাময়িক দৃষ্টিবিভ্রম। দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিলেই সাধারণত স্বাভাবিক উপলব্ধি ফিরে আসে।
আরও একটি বিষয় হলো, ‘ট্রক্সলার প্রভাব’ শুধু আয়নায় তাকালেই ঘটে না। কোনো ছবি বা লেখার পাতার নির্দিষ্ট অংশের দিকে কয়েক সেকেন্ড একদৃষ্টে তাকিয়েও এ ধরনের দৃষ্টিবিভ্রম দেখা দিতে পারে।
তবে এই ঘটনাকে ‘মোশন-ইনডিউসড ব্লাইন্ডনেস’ বা ‘বাইনোকুলার রাইভ্যালরি’র সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। ‘মোশন-ইনডিউসড ব্লাইন্ডনেস’-এ আশপাশের কোনো বস্তু হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। আর দুটি ভিন্ন ছবি একসঙ্গে দেখার ক্ষেত্রে ‘বাইনোকুলার রাইভ্যালরি’ হলে এক সময়ে একটি ছবির দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে অন্যটি বেশি স্পষ্ট মনে হতে পারে। ‘ট্রক্সলার প্রভাবের’ মতো এসব ক্ষেত্রে ছবির আকৃতি পরিবর্তিত হয় না।
/অ