দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা, নতুন মানুষ আর নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু অচেনা পরিবেশে আনন্দের পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিও থাকে। অপরাধ বিশ্বের সব জায়গাতেই ঘটতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে কিছু সাধারণ বিষয়ে সতর্ক থাকলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা ও উত্তর আফ্রিকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের সময় সহিংস ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া, ব্যাংক কার্ডের তথ্য চুরি হওয়া এবং অন্য পর্যটকদের নানা অভিজ্ঞতা থেকে নিরাপদ থাকার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় কোনো অঞ্চলে থাকার পরিকল্পনা থাকলে স্থানীয় ভাষার প্রাথমিক ধারণা থাকা কাজে আসে। বিশেষ করে বিপদে পড়লে পুলিশ, চিকিৎসক বা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়। গন্তব্যে যাওয়ার আগে কোন এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ এবং কোথায় পর্যটকদের সতর্ক থাকা উচিত, সে বিষয়েও তথ্য জেনে নেওয়া দরকার। হোটেল বা আবাসনের কর্মীদের কাছ থেকেও স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেতে পারে।
বিদেশে কিছুদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে ভ্রমণবিমা করা যেতে পারে। জরুরি চিকিৎসা, প্রয়োজন হলে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক সহায়তার মতো সুবিধা পাওয়া যেতে পারে এর মাধ্যমে।
ভ্রমণের সময় নিজের মালপত্রের ওপর সবসময় নজর রাখা জরুরি। বিশেষ করে বাস, ট্রেন, বিমানবন্দর, বড় স্টেশন কিংবা ব্যস্ত এলাকায় চোরেরা সুযোগ নিতে পারে। তাই লাগেজ কখনো অযত্নে ফেলে রাখা উচিত নয়।
টাকা তোলার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশে এটিএমে কার্ডের তথ্য চুরির ঘটনা ঘটে। তাই সম্ভব হলে ব্যাংকের ভেতরে, ব্যাংক খোলা থাকার সময়ে থাকা এটিএম ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্যাংক কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা জরুরি। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে দ্রুত কার্ড বন্ধ করা যায়—এমন সুবিধা থাকা ভালো। কার্ড হারিয়ে গেলে বা অপব্যবহারের বিষয়টি টের পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সেবা প্রদানকারীকে জানাতে হবে। কার্ড বন্ধ করার জরুরি ফোন নম্বরটি আলাদা করে লিখে রাখাও কাজে আসতে পারে।
ভ্রমণে দামি ক্যামেরা, ফোন কিংবা অন্য মূল্যবান সামগ্রী প্রকাশ্যে দেখানো ঠিক নয়। প্রয়োজনের সময় বের করে ব্যবহার করে আবার নিরাপদে ব্যাগে রাখাই ভালো। বাইরে বের হলে সেদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণ টাকা সঙ্গে রাখা যেতে পারে।
অপরিচিত জায়গায় প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কেও আগে থেকে জেনে নেওয়া দরকার। কোনো কোনো স্থানে পর্যটকদের বিভ্রান্ত করে তাদের মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাই অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতিতে অপরিচিত মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহ দেখালে সতর্ক থাকা জরুরি।
যেসব মূল্যবান জিনিস প্রতিদিন প্রয়োজন হয় না, সেগুলো হোটেল বা হোস্টেলের নিরাপদ বাক্স কিংবা লকারে রেখে যাওয়া যেতে পারে। পাসপোর্টও সব সময় সঙ্গে না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বহন করা এবং এর একটি কপি রাখা যেতে পারে।
জরুরি ফোন নম্বরের একটি তালিকা তৈরি করে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে পরিবার, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় নম্বর রাখা যেতে পারে।
ভ্রমণে যত কম মালপত্র থাকবে, তত সহজে সেগুলোর ওপর নজর রাখা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত এলাকা, বাস কিংবা ট্রেনে ছোট ব্যাগ বহন করলে নিজের জিনিসপত্র সামলানো সহজ হয়।
কেউ ছিনতাইয়ের শিকার হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক করে তোলার মতো কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিজের নিরাপত্তাকে মূল্যবান জিনিসপত্রের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
রাতে বাইরে গেলে দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করা নিরাপদ। একে অন্যের খোঁজ রাখাও জরুরি। অপরিচিত পরিবেশে অতিরিক্ত মদ্যপান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো পার্টি বা অনুষ্ঠানে গেলে নিজের পানীয়ের ওপরও নজর রাখা উচিত, যাতে কেউ তাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু মিশিয়ে দিতে না পারে।
রাতে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে পরিচিত ও নিবন্ধিত ট্যাক্সি ব্যবহার করা ভালো। বিশেষ করে কিছু দেশে অনুমোদনহীন ট্যাক্সির সঙ্গে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সম্পর্ক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই হোটেল, রেস্তোরাঁ, বার বা ক্লাবের সহায়তায় নিবন্ধিত ট্যাক্সি নেওয়া যেতে পারে।
গন্তব্যের পরিবহনব্যবস্থার নিরাপত্তার বিষয়টিও আগে থেকে জানা দরকার। পাহাড়ি এলাকায় অপরিকল্পিত বা ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক, বৃষ্টির সময় ভূমিধস কিংবা অনিরাপদ যানবাহন ভ্রমণকে বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবহন বেছে নেওয়া যেতে পারে।
সহযাত্রীদের আচরণও ভ্রমণের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কারও সঙ্গে ভ্রমণে যাওয়ার আগে নিরাপত্তার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, তা বিবেচনা করা ভালো। কেউ বারবার ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করলে প্রয়োজন অনুযায়ী তার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়াও নিরাপদ হতে পারে।
কোনো জায়গা, যানবাহন কিংবা পরিস্থিতি নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হলে নিজের সতর্কতাবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু অস্বাভাবিক মনে হলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও তথ্য সংগ্রহ করা ভালো।
রাস্তায় অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় না করাই নিরাপদ। কোনো কোনো দেশে ভালো বিনিময় হারের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করা হতে পারে। টাকা তোলার পর ছোট নোটে ভাঙিয়ে নেওয়াও কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হতে পারে, যাতে জাল নোট বা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতারণার ঝুঁকি কমে।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গন্তব্য সম্পর্কে ভালো ধারণা পেতে সহায়তা করতে পারে। তবে পরিচিতি তৈরির ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
হোটেল বা হোস্টেলে থাকলেও সতর্কতা কমানো উচিত নয়। সেখানে মূল্যবান জিনিস নিরাপদ বাক্স বা লকারে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ভ্রমণ করার পর নিজের অভিজ্ঞতার ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে অসতর্ক হয়ে পড়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই কতদিন ধরে কোনো জায়গায় আছেন, তা বিবেচনা না করে সবসময় চারপাশের পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখা জরুরি।
ভ্রমণকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। বরং গন্তব্য সম্পর্কে আগে থেকে জানা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া, মূল্যবান জিনিসের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস থাকলে অচেনা জায়গাতেও নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: ব্যাক প্যাকার অর্গানাইজেশন
/অ