দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সন্তানের ভালো চান—এটাই সাধারণত বাবা-মায়ের স্বাভাবিক প্রবণতা। তাই ভুল থেকে দূরে রাখতে তারা প্রায়ই পরামর্শ দেন, সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন কিংবা সন্তানের জীবন নিয়ে অতিরিক্ত খোঁজখবর রাখেন। তবে সন্তান যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে, তখন বাবা-মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের ধরনও ধীরে ধীরে বদলানো প্রয়োজন। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি একসময় সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব ও টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মায়ের উচিত নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা থেকে সরে এসে পরামর্শদাতা ও সহায়ক হিসেবে পাশে থাকা এমনটাই বলেছেন, কাউন্সেলর, ফ্যামিলি থেরাপিস্ট এবং মাইন্ডওয়েল কাউন্সেলের প্রতিষ্ঠাতা অর্চনা সিংহল। তিনি বলেন, ১৮ বছর বয়সে একজন সন্তান শৈশব পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে প্রবেশ করে। এ সময়ে বাবা-মা যদি তার জীবনের প্রতিটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন, তাহলে সন্তানের আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা ও মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সব সিদ্ধান্ত বাবা-মা নিয়ে দিলে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান সিদ্ধান্তহীনতা, উদ্বেগ কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভয়েও ভুগতে পারেন। তাই এই সময়ে ভালো অভিভাবকত্বের অর্থ হলো নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া।
বিশেষজ্ঞের মতে, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বাবা-মায়ের যে পাঁচটি অভ্যাস ধীরে ধীরে বাদ দেওয়া উচিত-
১. সন্তানের সব সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া বন্ধ করুন
শিক্ষা, ক্যারিয়ার, বিয়ে, বন্ধুত্ব কিংবা ভবিষ্যৎ—সব বিষয়ে বাবা-মায়ের উচিত সন্তানের হয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার মধ্য দিয়েই দায়িত্ববোধ ও আত্মনির্ভরতা তৈরি হয়।
২. প্রতিটি ভুলকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখবেন না
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানেরও ভুল করার এবং সেই ভুল থেকে শেখার অধিকার রয়েছে। কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করে দেওয়ার বদলে তাকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, ‘তুমি কী মনে করো, অন্যভাবে কী করা যেত?’ ভুলের জন্য অপমান বা দোষারোপ না করে নিজের কাজের ফল বুঝতে সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত।
৩. ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত নজরদারি বন্ধ করুন
সন্তানের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা জরুরি। কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে কথা বলছে, কত টাকা খরচ করছে, কার সঙ্গে মেসেজ আদান-প্রদান করছে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী করছে—এসব নিয়মিত নজরদারি করলে সন্তানের মনে বাবা-মায়ের প্রতি অবিশ্বাসের ধারণা তৈরি হতে পারে।
৪. অন্যের সঙ্গে তুলনা করা বন্ধ করুন
ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন কিংবা পরিবারের বন্ধুদের সন্তানের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে তুলনা করা উচিত নয়। এ ধরনের তুলনা আত্মসম্মান কমিয়ে দিতে পারে এবং নিজেকে অন্যের চেয়ে পিছিয়ে মনে হওয়ার প্রবণতা তৈরি করতে পারে। বরং তার নিজের অগ্রগতি ও পরিবর্তনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
৫. আবেগের চাপ দিয়ে সিদ্ধান্তে বাধ্য করবেন না
সন্তান যে সিদ্ধান্তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না, সেখানে তাকে অপরাধবোধে ভোগানো ঠিক নয়। যেমন—‘তুমি ওই চাকরি নিলে আমরা খুব হতাশ হব’—এ ধরনের কথা সন্তানের নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে পারিবারিক সম্পর্কে উত্তেজনা ও দূরত্বও বাড়তে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
কেএম