দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুখী দাম্পত্যের ক্ষেত্রে সাধারণত সঙ্গীর স্বভাব, রুচি বা মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সঙ্গীর সঙ্গে বয়সের ব্যবধানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রায়ই আলোচনার আড়ালে থেকে যায়। একেক দম্পতির ক্ষেত্রে সমীকরণ একেক রকমভাবে কাজ করে। কেউ সমবয়সী বা কাছাকাছি বয়সের সঙ্গীর সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ বছরের ব্যবধানেও চমৎকার ও সফল দাম্পত্য জীবন গড়ে ওঠে।
বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, নারীরা পুরুষের তুলনায় শারীরিক ও মানসিকভাবে দ্রুত পরিণত হয়। তাই কমবয়সী নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করাটা অনেক সংস্কৃতিতে প্রথার মতো চর্চা হয়ে আসছে।
৫ থেকে ৭ বছরের ব্যবধান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ৫ থেকে ৭ বছরের ব্যবধান থাকলে মানসিক পরিপক্বতা ও সমঝোতায় ভালো ভারসাম্য তৈরি হয় এবং অযৌক্তিক মতবিরোধ কমে আসে। তবে এটি কোনো সার্বজনীন সূত্র নয় এবং সবার জন্য সমানভাবে নাও মিলতে পারে।
১০ বছরের ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রে ১০ বছর বয়সের ব্যবধানকে আদর্শ মনে করা হয়, যদি দুই জনের মধ্যে ভালোবাসা থাকে। যখন তারা নিজেদের জীবনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ঠিক করে নেবে তখন এই ১০ বছরের ব্যবধান কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করবে না। তবে অনেক ক্ষেত্রে এমন বয়সের ব্যবধানে স্ত্রী স্বামীর ওপরে কোনো কথা বলতে পারে না। সেক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়।
২০ বছর বা তার বেশি ব্যবধান ব্যবধান যখন ২০ বছর বা তার বেশি হয়, তখন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিংবা জীবনধারায় অমিল দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সব থেকে বড় সমস্যা হতে পারে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে। বয়স্ক সঙ্গী দ্রুত সন্তান নিতে চাইবে। সেক্ষেত্রে কম বয়সী সঙ্গী আগ্রহী হবে না। যদিও গভীর বোঝাপড়ার মাধ্যমে এমন বহু সম্পর্ক সফলভাবে টিকে থাকার নজির রয়েছে।
বয়সের ব্যবধান কতটা প্রভাব ফেলে বয়সের ব্যবধান সম্পর্কে অনেকটাই প্রভাব ফেলে। কারণ এতে মতামতের বিশাল পার্থক্য থাকে। তবে বর্তমান বিশ্ব প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাধারণত বয়সের ব্যবধান যত বেশি হয় দম্পতিরা তত বেশি সমস্যার মুখোমুখি হয়। এজন্য বয়সের ব্যবধান কম হলেই তাকে আদর্শ ধরা হয়।
২০১৭ সালের একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণা অনুযায়ী, যেসব দম্পতির বয়সের ফারাক ১ থেকে ৩ বছর এবং পুরুষ সঙ্গী বয়সে বড়, তাদের সন্তুষ্টির মাত্রা বেশি। আবার বিয়ের ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে যাদের বিচ্ছেদ ঘটে, তাদের বড় অংশের ক্ষেত্রে বয়সের ব্যবধান ছিল ৭ বছর বা তার বেশি। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়; বড় ব্যবধান থাকার পরও বহু বছর সুখে সংসার করছেন এমন দৃষ্টান্তও অঢেল।
এমনকি নারীর বয়স পুরুষের চেয়ে বেশি হওয়া সত্ত্বেও বহু দম্পতি সফল জীবন কাটাচ্ছেন। ভোগ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মডেল ইলিলি জানান, তার ৫৩ বছর বয়সী বাবা ভেঙ্কট রমণ ও ৪৩ বছর বয়সী মা পূর্ণিমা দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সুখী দাম্পত্যে আছেন। যেখানে বয়সের ফারাক কোনো সমস্যা তৈরি করেনি।
এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান খান বলেন, সম্পর্কের চূড়ান্ত সাফল্য আসলে সেই যুগলের সক্ষমতা এবং দুঃসময়ে একসঙ্গে থাকার, কথা রাখার ওপর নির্ভর করে।
তিনি বলেন, বয়সের বেশি পার্থক্য এমন যুগলদের চাইতে ৫-৭ বছর ফারাক আছে এমন যুগলরা সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে বেশি আসেন।
কেএম