দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভ্যালেন্টাইন্স উইক-এর তৃতীয় দিন ‘চকোলেট ডে’ হিসেবে পালিত হয়। বহু বছর ধরে এই দিনে প্রিয়জনের জন্য চকোলেট উপহার দেওয়া হয়ে আসছে।
তবে ‘চকোলেট ডে’ মানে কেবল চকোলেট আদান-প্রদান নয়; এটি আবেগ, স্মৃতি এবং ভালোবাসার সম্পর্ককে আরও মিষ্টি করে তোলার দিন।
অনেকেই মনে করেন, এই দিনে শুধুমাত্র চকোলেট দেওয়াই যথেষ্ট, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একটি প্রতীক। সত্যিকারের প্রীতি ও বন্ধুত্ব দেখানোর জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা, সময় ও মনযোগ।
মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, ছোট ছোট মুহূর্তের যত্ন, আন্তরিক কথোপকথন এবং পারস্পরিক সমর্থনই সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদী করে। তাই ‘চকোলেট ডে’ কেবল উপহার দেওয়ার দিন নয়, বরং প্রিয়জনকে সময় দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করার দিন হিসেবেও দেখা উচিত।
চকোলেট এক উপহার হিসেবে আনন্দ দেয়, কিন্তু সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয় হৃদয় থেকে। তাই এ দিনটি উদযাপন করুন আন্তরিকতার সঙ্গে, শুধুমাত্র উপহার নয়, ভালোবাসা শেয়ার করেই।
আগে সাধারণ চকোলেট বক্সই ছিল এই দিনের মূল আকর্ষণ, কিন্তু এবার ট্রেন্ডে এসেছে পার্সোনালাইজড, ক্রিয়েটিভ এবং ডিজিটাল টাচযুক্ত রোম্যান্টিক গিফট।
শহরের ক্যাফে, অনলাইন স্টোর ও চকোলেট ব্র্যান্ডগুলোর মতে, এই ধরনের চকোলেটের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘চকোলেট ডে’ আলাদা দিনে পালিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক চকোলেট দিবস’ হিসেবে ধরা হয়। ব্রিটেনে ২৮ অক্টোবর এবং ১০ জানুয়ারিও ‘চকোলেট দিবস’ পালন করা হয়। প্রথমবার ইউরোপে ৭ জুলাই ‘চকোলেট দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়েছিল।
চকোলেটের ইতিহাসও বেশ পুরনো। শব্দটি এসেছে কাকাহুতাল ভাষা থেকে, আবার কেউ কেউ মনে করেন মায়াদের ‘চকোলাতাল’ শব্দ থেকে এসেছে। মায়া সভ্যতায় চকোলেট ছিল অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়, যা গরিব-ধনী নির্বিশেষে সকল অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হতো। তখন চিনির ব্যবহার জানা না থাকায় কোকো শুকিয়ে লঙ্কার গুঁড়োর সঙ্গে মিশিয়ে চকলেটের পেস্ট তৈরি করা হতো। ধীরে ধীরে তৈরি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, যেমন দক্ষিণ ভারতীয় কফির মতো ফেনা তৈরি করে মাটির পাত্রে রাখা হতো। এইভাবে হাজার বছর ধরে মানুষ আজকের আধুনিক চকলেটের স্বাদ পেয়েছে।
ডিজিটাল যুগে প্রেমও হয়েছে আরও স্মার্ট। এবার অনেক ব্র্যান্ড চালু করেছে কিউআর কোড-এনেবেলড চকোলেট গিফট। প্রিয়জন চকোলেটের সঙ্গে একটি কোড পান, যা স্ক্যান করলে দেখা যায় কাস্টম লাভ ভিডিও, ভয়েস নোট বা ডিজিটাল প্রেমপত্র। আধুনিক প্রযুক্তি মেলানো এই গিফট প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া যায় সহজভাবে।
সুতরাং বলতেই হয়, ‘চকোলেট ডে’ এখন শুধুই চকোলেট নয়; এটি অনুভূতি, স্মৃতি এবং প্রযুক্তির সংমিশ্রণে প্রেমের একটি নতুন রূপে পরিণত হয়েছে।
এবি/