দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিয়মিত হাঁটা, ডায়েট চার্ট মেনে চলা বা জিম—সবই করছেন। তবু ওজনের কাঁটাটা যেন নড়ছেই না। অনেকেই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন, আর সেখান থেকেই জন্ম নিচ্ছে হতাশা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি একক কোনো নিয়ম না মানার ফল নয়; বরং শরীরের ভেতরের নানা জৈবিক ও দৈনন্দিন অভ্যাসগত কারণ মিলেই এই স্থবিরতা তৈরি করে।
প্রথমেই আসে ক্যালরির হিসাব। আমরা যা খাই, তার পরিমাণ অনেক সময় চোখে কম মনে হলেও মোট ক্যালরি ঠিকই বেশি হয়ে যায়। তেলে ভাজা নয়, ঘরে রান্না—এই ধারণায় অনেকেই নিশ্চিন্ত থাকেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভাত, রুটি, বা ‘স্বাস্থ্যকর’ বলে পরিচিত বাদাম, ড্রাই ফ্রুটস—সব মিলিয়ে ক্যালরির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। উপরন্তু পানীয় ক্যালরি—চা-চিনি, জুস, বা সফট ড্রিংক—অজান্তেই হিসাব ছাপিয়ে যায়।
এরপর আসে মেটাবলিজমের প্রসঙ্গ। দীর্ঘদিন একই ডায়েট ও একই ধরনের ব্যায়াম করলে শরীর ধীরে ধীরে তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। একে বলা হয় ‘প্লাটো’। শরীর তখন শক্তি সাশ্রয়ী মোডে চলে যায়, ফলে আগের মতো ক্যালরি খরচ হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় ডায়েট ও ব্যায়ামে ছোট পরিবর্তন আনা জরুরি—ব্যায়ামের ধরন বদলানো, বা প্রোটিন ও ফাইবারের অনুপাত সামান্য সমন্বয় করা।
ঘুমের ঘাটতিও বড় ভূমিকা রাখে। কম ঘুম হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনে প্রভাব পড়ে। তখন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খেতে ইচ্ছে করে, বিশেষ করে মিষ্টি বা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার। নিয়ম মানার মাঝেও এই হরমোনের ওঠানামা ওজন কমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা চর্বি জমার প্রবণতা বাড়াতে পারে। বাইরে থেকে দেখা যায় নিয়ম মেনে চলা জীবন, কিন্তু ভেতরে চলতে থাকা চাপ ও উদ্বেগ ওজন কমার গতি থামিয়ে দিতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে ওষুধও ভূমিকা রাখে। কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ—যেমন হরমোনজনিত বা অ্যালার্জির চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ—ওজন কমাকে ধীর করতে পারে। তাই নিয়ম মেনেও ফল না পেলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে বড় ভুল হয় ওজনকে একমাত্র মাপকাঠি বানালে। শরীরচর্চা শুরু করলে অনেক সময় চর্বি কমলেও পেশি বাড়ে। পেশির ওজন বেশি হওয়ায় দাঁড়িপাল্লায় পরিবর্তন কম দেখা যায়। কিন্তু কাপড়ের ফিটিং বা শরীরের গঠন বদলালেই বোঝা যায় ভেতরে পরিবর্তন হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরা জরুরি। নিয়ম মানা মানেই কেবল ক্যালরি কমানো নয়; ঘুম, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন, খাবারের গুণগত মান—সবকিছু মিলেই সুস্থ ওজন ব্যবস্থাপনা। ওজন কমা কোনো রাতারাতি প্রক্রিয়া নয়। ধারাবাহিকতা আর সচেতন সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত ফল দেয়।
এবি/