দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শহরের বাতাস যেন বিষের কৌটা। কালো ধোঁয়া, ধূলিকণা, দুর্গন্ধ, যানজট, সব মিলিয়ে বাড়ছে দূষণ। আর এমন দূষিত বাতাসে প্রতিমুহূর্তে নিঃশ্বাস নিচ্ছে কোটি মানুষ, যা অদৃশ্যভাবে ক্ষয় করছে আমাদের শরীর একইসঙ্গে আমাদের স্মৃতিও।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও এমআরসি এপিডেমিওলজি ইউনিটের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, তিনটি উপাদান যা সরাসরি স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়ায় PM 2.5 বা আড়াই মাইক্রনের কম আকারের ক্ষুদ্র ধূলিকণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড এবং কালো ধোঁয়া। প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ১০ মাইক্রোগ্রাম PM2.5 থাকলে, স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসে ঢুকে রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। সেখানে এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ সৃষ্টি করে কোষ, প্রোটিন এবং ডিএনএকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মস্তিষ্কে এই ক্ষতি স্মৃতিভ্রংশের জন্ম দেয়।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬ কোটি মানুষ স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে সোয়া ১৫ কোটি। দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলো যেমন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, করাচি, দিল্লি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশে বায়ুদূষণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের Breathing Heavy রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৮–২০২১ সালে এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশ, আর ঢাকা দ্বিতীয় দূষিত শহর। প্রতিবছর বায়ুদূষণে মারা যায় প্রায় ৭৮–৮৮ হাজার মানুষ। যানজট, ইটভাটা ও নির্মাণকাজে ঢাকার বাতাস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানের প্রায় ১০০ গুণ খারাপ। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, শুধু শারীরিক ক্ষতি নয়, বায়ুদূষণ এর কারণে বাড়ছে অবসাদ, উদ্বেগ, ডিপ্রেশন। যুক্তরাজ্যের চার লাখ মানুষের ওপর করা জরিপে দেখা গেছে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হন এই মানসিক চাপে।
বায়ুদূষণ এখন জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস, স্মৃতি ভঙ্গ বা মস্তিষ্কের রোগসহ নানা সমস্যা ভুগছেন। এই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা, সবুজায়ন ও সঠিক নীতি প্রয়োগই পারে আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে।
/অ