দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছয় মাস বয়স পর্যন্ত স্তন্যপানই হলো শিশুর পুষ্টির একমাত্র উৎস। এটি তার সঠিক পুষ্টি প্রদানের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। স্তনদুগ্ধ নিরাপদ ও পরিষ্কার। এটি নবজাতককে হাঁপানি, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্পমেয়াদী রোগ থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া এটি অ্যান্টিবডি সমৃদ্ধ যা শিশুকে রোগ থেকে রক্ষা করে। সহজভাবে বলতে গেলে স্তন্যপান করানো হলে তা শিশুকে সুস্থ রাখে।
এখন প্রশ্ন হলো স্তন্যপান করানো একজন মায়ের কী ধরণের খাবার খাওয়া উচিত। সন্তান জন্মের পর শিশুর প্রথম খাদ্য মায়ের দুধ। তাই তার পেট ভরাতে মায়েদের আরও বেশি নিজের ডায়েটে নজর দিতে হবে। সবুজ শাক সবজি, ছোট মাছ, মাংস, ডিমসহ মৌসুমি ফল অবশ্যই খেতে হবে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা স্তন্যপান করানো মায়ের যেসব খাবার খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে জানাবো। আপনি যদি স্তন্যদান করে থাকেন, তাহলে নীচে দেওয়া খাবারের তালিকা নিজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

সামুদ্রিক খাবার হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর। মাছ প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং এতে কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে। এতে ওমেগা–3 ও আছে। সামুদ্রিক খাবারের পুষ্টিগুণ আমাদের হৃদপিণ্ডকে রক্ষা করে এবং আরো শক্তিশালী করে।
একজন স্তন্যদানকারী মায়ের প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিনবার প্রোটিন খাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে মাংস ও পোল্ট্রির খাবারের আইটেমগুলো প্রোটিনের সবচেয়ে ভালো উৎস হিসেবে কাজ করে।
ফল ও শাকসবজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং মিনারেলে সমৃদ্ধ খাবার। এগুলো নিজেকে হাইড্রেটেড রাখার জন্য একটি ভালো উৎস। তাই একটি ব্যালান্সড বা সুষম ডায়েট তৈরি করার জন্য তাতে ফল ও শাকসবজি যোগ করা উচিত।
বাদাম ও বীজ প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় মিনারেল যেমন আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের একটি উচ্চ উৎস।
এবার দেখে নেওয়া যাক স্তনদুগ্ধ বাড়ানোর জন্য মায়ের কোন ডায়েট অনুসরণ করা উচিত:
হ্যাঁ! গিনেসের এই লম্বা ঘাসগুলো স্তনদুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাঠি। এখানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে বার্লি হল বিটা-গ্লুকানের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী উৎস। বিটা-গ্লুকান পলিস্যাকারাইড সমৃদ্ধ যা স্তন্যদান করানোর জন্য সাহায্যকারী প্রোল্যাক্টিন হরমোন এর পরিমাণ বাড়ায়। বার্লি মাল্ট হল একটি অঙ্কুরিত বার্লির দানা। যখন বার্লি অঙ্কুরিত হয়, তখন এটি একটি মিষ্টি সিরাপে পরিণত হয় এবং এটি ম্যাপল সিরাপের পরিবর্ত হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।
মেথি গাছ থেকে প্রাপ্ত বীজ স্তনদুগ্ধ বাড়ানোর জন্য একটি ভালো খাদ্য উপাদান হতে পারে। এগুলো ফাইটোস্ট্রোজেন ধারণ করার জন্য পরিচিত। যা স্তন্যপান উদ্দীপিত করাতে সাহায্য করে। এটি পূর্ব এশিয়া এবং ভারতে বেশ জনপ্রিয়।
স্তন্যদুগ্ধ বাড়ানোর জন্য ডায়েটের মধ্যে সবুজ ও লাল শাকসবজির ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি হয়। এগুলো ভিটামিন, মিনারেল এবং এনজাইম বা উৎসেচকের একটি সমৃদ্ধ উৎস। তিক্ত স্বাদ কমানোর জন্য এসব শাকসবজি কাঁচা সালাদ বা রান্না করেও খাওয়া যেতে পারে। এগুলো ফাইটোস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ খাবার। যা স্তন্যদানের প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে দেয় ।
ব্যালান্সড ডায়েট বা সুষম খাদ্যের জন্য ওটস খুবই উপকারি। এটি ঠিক বার্লির মতো কাজ করে। যেহেতু ওটসও স্তন্যদানের প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। সুতরাং আপনি এগুলোর মধ্যে থেকে যেকোনো একটি, বার্লি বা ওটস বেছে নিতে পারেন৷
রসুন শুধুমাত্র স্বাদ বৃদ্ধির জন্যই বিখ্যাত নয়। বরং এটি তার পজিটিভ স্বাস্থ্যজনিত উপকারিতা এবং স্তন্যপান করাতে সাহায্যের জন্যও বিখ্যাত। অন্যদিকে মশলাগুলো খাদ্যের সাপ্লিমেন্ট হিসেবে পরিচিত কারণ এটি আমাদের খাদ্যকে জিঙ্ক, আয়রন ইত্যাদি উপাদান দিয়ে সমৃদ্ধ করে, যা একজন স্তন্যদানকারী মায়ের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করে।
এস