দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পারিবারিক জীবনে এমন অনেক সংবেদনশীল বিষয় আছে, যেগুলো শিশুর সামনে আলোচনা করা মোটেও উচিৎ নয়। কারণ শিশুর বেড়ে ওঠাতে তার চারপাশের পরিবেশ ব্যাপক প্রভাব ফেলে। প্রত্যেক মা-বাবাই চায় তাদের সন্তান যেন ভালো থাকুক। তার মধ্যে যেন খারাপ কোনো গুণ না থাকে। এটা তখনই সম্ভব যখন বাবা-মা সন্তানকে সঠিক পথ দেখাবে। এ কারণে এমন অনেক কাজই আছে যা শিশুদের সামনে করা ঠিক নয়। চলুন সেসব কী কী জেনে নেওয়া যাক:
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রকৃতপক্ষে কিছু কিছু জিনিস বাবা–মায়ের কখনই শিশুদের সামনে বলা বা করা উচিত নয়। বাবা–মা হওয়া নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল কাজ। তাই শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশে বাবা–মাকে খুব সতর্ক হতে হবে। তাদের, জানা উচিত, কীভাবে শিশুরা তাদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং পরবর্তীতে অনুকরণ করে। যেমন, শিশুর সামনে নিজেদের দাম্পত্য জীবনের সমস্যা আড়ালে রাখার চেষ্টা করতে হবে। যথাসম্ভব গোপনীয়তা বজায় রেখে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তা নাহলে, মা ও বাবা যে কারও প্রতি, এমনকি দুজনের প্রতিই শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যেতে পারে।
ফোন এবং টিভি কম ব্যবহার করুন। যদি আপনার সন্তান আপনাকে সারাদিন টিভি বা ফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখে, তবে সেও আপনার মতোই এভাবে সময় কাটাবে। তাই এসবের পেছনে কম সময় ব্যয় করুন।
শিশুর সামনে সব বিষয়ে সমালোচনা করা যাবে না। বিশেষ করে পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে কোন নেতিবাচক মন্তব্য করা যাবে না। কারণ, নেতিবাচক এই মন্তব্য শিশুর মনের মধ্যে ওই ব্যক্তির প্রতি স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও এই আলোচনা সমালোচনা শিশু অন্য কারো সাথে শেয়ার করলে আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিন্ন হতে পারে।
কখনো কাউকে অপমান করবেন না। আপনি যদি প্রতিবেশী, বন্ধু বা পরিবারের কোনো সদস্যকে অপমান করেন, তাহলে তা আপনার বাচ্চার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার সঙ্গে কারোর মতপার্থক্য থাকতেই পারে বা আপনি কাউকে অপছন্দও করতে পারেন। কিন্তু বাচ্চার সামনে তাদের প্রতি আপনার ক্ষোভ ব্যক্ত করবেন না।
খাবার নষ্ট করবেন না। এটা করা খুব খারাপ অভ্যাস।এভাবে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শেখান। কেননা, বাচ্চারা খাবার খাওয়াতে নিলে বেশিরভাগ সময় পুরো খাবার খায় না। নষ্ট করে। তাই তাদের খাবারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করুন। আপনি নিজেও খাদ্য অপচয় করবেন না।
বাচ্চার সামনে কখনো চিৎকার করবেন না। খুব বিরক্ত হলে বা রেগে গেলেও বাচ্চার সামনে কখনই চিৎকার করবেন না। বরং আপনার মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। আপনি যদি আপনার সন্তানের সামনে এমনটা করেন, তবে তার মনে হতে পারে যে এটি করা ঠিক।
কারো গায়ের রং বা শরীর নিয়ে খারাপ মন্তব্য করবেন না। আপনি যদি এ রকম আচরণ করেন, তবে আপনার সন্তানও এই পথ অনুসরণ করবে।
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়ার আশায় বাবা–মায়েরা শিশুদের নিয়ে মজার মজার ভিডিও তৈরি করে। মজার ছলে এমন ভিডিও বানালেও এগুলো দীর্ঘ মেয়াদে শিশুর ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, অনেকে শিশুকে বড়দের মতো আচরণ করতে শেখায়। বকাঝকা করা, রাগ দেখানো, কাউকে নিয়ে ঠাট্টা–তামাশা করা ইত্যাদি নেতিবাচক আচরণ অনুকরণ করতে উৎসাহিত করে। যার ফলে শিশুর মানুষিক বিকৃতি ঘটে।
আবার, অনেক বাবা-মা আছেন যারা ভুলেই যান যে শিশুদেরও আত্মসম্মান বোধ আছে।
এস