দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারীর রূপকে অনেক বেশি অপরূপ করে তোলে অলংকার। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত এর প্রতি নারীদের এক ধরনের অনুরাগ রয়েছে। সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অলংকারের ভূমিকা অপরিসীম। এক্ষেত্রে ছোট দুল হোক বা কোমরবন্ধ, টিকলি বা চুড়, বাউটি বা হার, আংটি বা মানতাশা, সীতাহার বা নূপুর। সে যেমনই হোক না কেন নারীর সৌর্ন্দয বাড়ে অলংকারেই।
এ ছাড়া এটি মানুষের রুচিবোধ, ব্যক্তিত্ববোধ, আর্থিক অবস্থা ও জীবনাচারের প্রকাশ ঘটায়। ফ্যাশন ও মডেলিংয়ের এ যুগে অলংকারের নিত্যনতুন ব্যবহারবিধি, রূপ ও পদ্ধতি প্রকাশিত হচ্ছে।
চন্দ্রহার, সীতাহার, ঝুমকা, কাঁকন, বালা, বাজু, টিকলি—যা-ই বলেন না কেন, গয়না মানেই আমাদের চোখে ভাসে ধাতব পদার্থে গড়া সুদৃশ্য কিছু জিনিস।একটা সময় ছিল যখন সোনার গয়না না থাকলে অতিথির সামনে যেতে বা বাইরে পা রাখতে দ্বিধা করতেন নারীরা। সোনার গয়না চিরকালই আভিজাত্যের প্রতীক। সঙ্গে ছিল রুপা ও মুক্তা; বিশেষ করে পায়ের অলংকার বানানো হতো রুপা দিয়ে। আর হীরার গয়না বরাবরই সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিভিন্ন সময় গয়না তৈরি হয়েছে বিভিন্ন উপকরণে। বিয়েবাড়ির মতো সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া এখন আর সোনার গয়না তেমন পরা হয় না।

সময় এখন কাস্টমাইজড গয়নার। বর্তমান প্রজন্মের কাছে পোশাক ও গয়না দুটোর ক্ষেত্রেই দেশীয় নকশা ও উপকরণের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। এখন গয়নার উপকরণে শুধু ধাতুই নয়, যোগ হয়েছে কাঠ, পাথর, মাটি এমনকি কাপড়। তরুণ প্রজন্মের কাছে এগুলোর চাহিদা রয়েছে বেশ। এর বড় কারণ, চাইলে নিজের পছন্দমতো নকশায় বানিয়ে নেওয়া যায় এসব গয়না। এগুলোর যত্নেও নেই তেমন ঝামেলা। এ ছাড়া এগুলো সব ঋতুতে, সব পোশাকের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। কাঠ, পাথর, পালকের গয়না একেক সময় ট্রেন্ডি হয়েছে। এখন ট্রেন্ডের পথে রয়েছে কাপড়ের গয়না। তেমনি গয়নার মধ্যে এখন নারীদের নজর কাড়ছে কাপড়ের তৈরি অলংকার।
কাপড়ের ওপর সুই-সুতার নকশা, কাচ-কুন্দন-পুঁতি বসানো, ট্যাসেল ঝোলানো গয়না এখন ট্রেন্ডি। ওজনে হালকা, নকশায় বৈচিত্র্য আর পোশাকের রং অনুযায়ী কাস্টমাইজড করার সুবিধা থাকায় অনেকেই বেছে নিচ্ছেন এ ধরনের গয়না।
দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে কাপড় বা এর ওপর নানা কারিগরি নকশায় হাতে তৈরি গয়নার বিকল্প নেই। মূলত দেশি পোশাকের সঙ্গে কাপড়ের গয়না মানানসই। বিশেষ করে তাঁত বা সিল্কের শাড়ির সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়।
পটের বিবির স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার ফোয়ারা ফেরদৌস বললেন শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে কাপড়ের গয়না পরার কিছু নিয়মের কথা। যা মেনে চললে পোশাক এবং গয়না দুটোরই সৌন্দর্য ফুটে উঠবে চমৎকার। কাপড়ের গয়না পরার ক্ষেত্রে রং, ধরন ও পরিমাণের যথাযথ বাছাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোন ধরনের চুড়ি পরবেন, তা শাড়ির ধরন অনুযায়ী বেছে নিতে হবে। যদি একরঙা শাড়ি পরেন, তাহলে কাপড়ের চুড়ির ওপর কড়ি, পুঁতি ইত্যাদি বসানো বেশ কয়েকটি চুড়ি পরা যেতে পারে।
ফোয়ারার মতে, চিকন পাড়ের একরঙা তাঁতের শাড়ির সঙ্গে গলায় একটি বড় কাপড়ের নেকলেস পরলে ভালো দেখাবে। সে ক্ষেত্রে হাতে ও কানে থাকবে একদম হালকা কিছু। আবার কেউ ছাপা বা জমকালো নকশার শাড়ির সঙ্গে কাপড়ের গয়না পরতে চাইলে তাঁকে গলায় কিছু না পরে কেবল চুড়ি ও কানে দুল পরার পরামর্শ দিলেন তিনি।
আবার কেউ যদি অলংকার হিসেবে গলার মালা, কানের দুল ও চুড়ি হিসেবে কাপড়ের গয়না বেছে নেন, তাহলে এর সঙ্গে কাপড়ের আংটি না পরাই ভালো। কারণ, সাধারণত আংটিগুলো যে আকারের হয় তাতে সব মনোযোগ সেখানে চলে যায়। তখন গয়নাগাটি মনে হয় অতিরিক্ত। পাশাপাশি গয়না নির্বাচন বা কেনার সময় ফিনিশিং দেখে নিতে হবে। যেহেতু এসব গয়না হাতে তৈরি হয়, তাই ফিনিশিং দেখে নেওয়া জরুরি। না হলে পুরো সাজটাই মাটি হয়ে যায়।
এস