দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রতিবছর লাখো মুসল্লি পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরাফাতের ময়দানে এসে হাজির হন। যেহেতু এসময় অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়, তাই এর জন্য শারীরিক সুস্থতা তথা শারীরিক ফিটনেসের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। হজ পালনকারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যাও কম নয়। এই সময় তাদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, হজ পালনের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। চলুন সেসব জেনে নেওয়া যাক:
হজ পালনের সময় রক্তের শর্করা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। এটি হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। হজে যাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক করে নেবেন। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও প্রস্রাবে কিটোন বডি নির্ধারণে গ্লুকোমিটার ও ডিপস্টিক ব্যবহার সম্পর্কে শিখে সঙ্গে নিয়ে নিন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে হজযাত্রার সময় ইনসুলিনের ডোজ ১০ থেকে ২০ শতাংশ বা সামান্য কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। মুখে খাওয়ার সালফোনাইলুরিয়া ওষুধ ইনসুলিনের মতো হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই প্রয়োজন মনে করলে চিকিৎসক এর মাত্রা কমাতে পারেন। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাধারণের পরিবর্তে অ্যানালগ ইনসুলিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া যায়।
নিয়মিত তিন বেলা খাবারের পাশাপাশি খাবারের মধ্যবর্তী স্ন্যাকসকে ভোলা যাবে না। এর জন্য বাদাম, ফল, মুড়ি ইত্যাদি সঙ্গে রাখা যেতে পারে। প্রতিদিন দু–একটি খেজুর খাওয়া যাবে। তাওয়াফের আগে পর্যাপ্ত জটিল শর্করা (যেমন ভাত, রুটি বা ওটস) ও খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার উপসর্গ বোধ করলে খেজুর বা চকলেট খেতে পারেন।
হাঁটার সময় ফাটল রোধে প্রতিদিন দুবার ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দৈনিক পা পরীক্ষা করবেন এবং কোনো কাটা বা ইনজুরি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন। পবিত্র স্থানগুলোর দূরত্ব ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে হলে না হাঁটাই উত্তম। মসজিদের মধ্যে জুতানিষিদ্ধ এলাকায় প্যাডেড মোজা ব্যবহার করা আবশ্যক। পা শুকনা রাখতে অজুর পর তোয়ালে দিয়ে মুছতে হবে।
এ ছাড়া প্রদাহ, ফোসকা ও সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে প্রয়োজনে প্রোফাইল্যাকটিক অ্যান্টিবায়োটিক সঙ্গে নিতে পারেন।
সর্বদা পানি সঙ্গে রাখতে হবে। কিডনি রোগী পানির পরিমাণ জেনে নেবেন।
ইনসুলিন নিতে বা ওষুধ খেতে ভুলবেন না। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঘন ঘন নিরীক্ষণ করতে হবে। যদি মাত্রাগুলো ১৫ মিলিমোল/লিটারের ওপরে ওঠে, তবে প্রস্রাবের কিটোন পরীক্ষা করা দরকার।
যেকোনো ধরনের অসুস্থতা, সংক্রমণ, ডায়রিয়া বা বমি হলে পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন ও মিষ্টি নয় এমন পানীয় পান করবেন। এর পাশাপাশি অল্প পরিমাণে ঘন ঘন খাবার খাবেন। আর অসুস্থতা বেশি হলে চিকিৎসকেরা সাহায্য নিতে হবে।
প্রত্যেক ডায়াবেটিসের রোগী হজযাত্রার আগে ইনফ্লুয়েঞ্জা, মেনিনজাইটিসসহ প্রয়োজনীয় সব টিকা নেবেন।
এস