দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অনেকেই সহজে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকেন। আর নিয়মিত বাইক চালালে বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাইক রাইডাররা প্রতিনিয়তই একটি গুরুতর সমস্যায় ভোগেন। আর তা হলো শরীর ব্যথা। বিশেষ করে অনেকেই হাত, ঘাড়, পিঠ কিংবা কোমরের প্রচণ্ড ব্যথায় ভোগেন। কেউ বিষয়টিকে সহজে পাত্তা দেন না, আবার কেউ মুঠো মুঠো ব্যথার ওষুধ খেয়ে শরীরের ব্যথা দমিয়ে রাখেন। যা কিডনিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে আপনার কিছু ভুল অভ্যাস ও অসচেতনতার কারণেও এমন শারীরিক ব্যথায় ভুগতে পারেন ।
এ নিয়ে ভারতীয় এক চিকিৎসক বলছেন, ‘স্পন্ডিলোসিস বা স্পন্ডিলোলিস্থেসিসের সমস্যা থাকলে দীর্ঘ সময় ধরে মোটরবাইক চালালে ব্যাক পেইন বাড়বেই এবং তার থেকে অন্য সমস্যাও তৈরি হতে পারে। জয়েন্ট পেইন থাকলে টু-হুইলার চালাতে ততটা সমস্যা নেই। তবে বয়স্করা ভারী বাইকের বদলে স্কুটার ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে যাদের হাঁটুর সমস্যা আছে বা হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। মেরুদণ্ডের সমস্যা থাকলে, স্পাইনাল সার্জারি হলে মোটরবাইক চালানো এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। স্লিপ ডিস্কের ক্ষেত্রে, সমস্যা কতটা গুরুতর তার উপর নির্ভর করছে।’
একটানা দীর্ঘক্ষণ মোটরসাইকেল চালালে শরীরে অন্যান্য সমস্যাও হতে পারে। এই বিষয়ে ভারতীয় আরেক চিকিৎসক বলেন, ‘বাইক চালানোর সময়ে হাঁটু অনেকক্ষণ ভাঁজ করে রাখতে হয়। এতে পরবর্তীতে আর্থরাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। দুটো হ্যান্ডেল জোরে চেপে ধরে থাকার ফলে হাতে সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, লিখতে বা কোনো কিছু গ্রিপ করতে অসুবিধা হয়।
মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসক আরও বলেন, বাইকারদের নিয়ম করে হাতের আঙুলের ব্যায়াম করতে হবে। যেমন, দুই হাতের আঙুল পরস্পরের ফাঁকে ঢুকিয়ে উল্টা করে চাপ দেওয়া বা হাতের মুঠোয় সফট বল নিয়ে প্রেস করা। এতে রক্ত চলাচল ভালোভাবে হবে। মাংসপেশি স্টিফ হবে না। যারা প্রতিদিন অনেকটা পথ বাইক চালান তাদের নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
ফিটনেস ট্রেইনারদের মতে, বাইকদের নিয়মিত এক্সারসাইজ করা জরুরি। কারণ বাইক চালাতে গিয়ে দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে পেটে চর্বি জমে ওজন বেড়ে যায়। যার ফলে হাঁটুতে ব্যথা হয়।
এ ছাড়া নিয়মিত বাইক চালালে ৩০-৩৫ বছর বয়সেই কোমরের ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়। তাই বাইকারদের নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করা জরুরি।চলুন বাইকারদের প্রয়োজনীয় ব্যায়ামগুলো দেখে নেওয়া যাক:
১. প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটতে হবে।
২. দেওয়ালে একটা হাত রেখে চাপ দিয়ে পেছনে পা ওঠান। দুই পায়ে পাঁচবার করলেই হবে। এতে হিপ মাসল ফ্লেক্সিবল থাকবে।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও থাই মাসল টাইট রাখতে স্কোয়াট, স্পট জগিং কার্যকর।
৪. অনেকক্ষণ মোটরবাইক চালানোর পর একটু বিরতি নিন। বাইক থেকে নেমে শরীরের মুভমেন্ট করুন। কোমরে হাত দিয়ে সামনে-পেছনে, ডান-বাম দিকে ঝুঁকে ব্যায়াম করুন।
এসব ছাড়াও উচ্চতা ও শরীর বুঝে বাইক নির্বাচন করা উচিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাইকারের নিজের উচ্চতা, দেহের ওজন ও গঠন বুঝে বাহন নির্বাচন করা জরুরি। মোটরবাইক প্রস্তুতকারক সংস্থার বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত না হয়ে নিজের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন। স্ট্যান্ডার্ড বাইক নির্বাচন করুন যেটায় পিঠ সোজা রেখে চালানো যায়। এতে করে অনেকক্ষণ বাইক চালালেও ব্যাকপেইন হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
এস