দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অভিভাবকত্ব সহজ কোনো বিষয় নয়। প্রতিটি মা-বাবাই তার সন্তানদের আদর যত্ন, ভালোবাসা দিয়ে লালন পালন করেন। সন্তানের সুখ-দুঃখে সবার আগে তারাই এগিয়ে আসেন। তবে শিশুর সঙ্গে কখন কী কথা বলতে হবে তা জানা খুবই জরুরি। কারণ, আপনার কথাগুলোই তাদের উপলব্ধি এবং আবেগকে আকার দেয়।
কিছু কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের আত্মসম্মান এবং আত্মবিশ্বাসের ক্ষতি করতে পারে। তাই শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় সতর্ক থাকতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, শিশুর সঙ্গে কোন কথাগুলো বলা থেকে বিরত থাকতে হবে-
যখন কোনো কিছুতে শিশু আঘাত পায় তখন, আমরা তাকে কান্না থেকে বিরত রাখার জন্য মিথ্যা কথা বলে থাকি। বলি, ‘তুমি ঠিক আছো, কিছু হয়নি’। সত্যিই কি তাই? ঠিক একইভাবে যদি আপনি ব্যথা পাওয়ার পর কেউ বলে, আপনি ঠিক আছেন, আপনার কিছুই হয়নি। তখন মেনে নিতে পারবেন তো? শিশুরাও কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই আবেগ অনুভব করে। যখন তারা বিচলিত বা আহত হয়, তখন তাদের সেই অনুভূতি প্রকাশ করতে দিন। আর তার ব্যথায় সহানুভূতিশীল হোন। এতে তারা সঠিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বড় হবে।
শিশুকে ক্ষমা চাইতে শেখানো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার আগে সে কি অপরাধ করেছে সে সম্পর্কে বুঝতে দিন। এরপর পুরো বিষয়টি তার কাছ থেকে জানতে চান এবং এমন অবস্থায় কী করা উচিত তা তাকেই জিজ্ঞাসা করুন। এতে তার কোনো ভুল হয়ে থাকলে সে সহজেই তা বুঝতে পারবে।
কর্তৃত্ব দেখানো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা যুক্তিযুক্ত হতে হবে। কেবল আপনি বলেছেন বলেই শিশুটি যেকোনো কিছু করতে বাধ্য নয়। কারণ সেও আলাদা একজন মানুষ। মনে রাখবেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠন হতে থাকে। তাই তাকে ভুল পথে নেওয়া যাবে না। তাকে সবকিছু করতে বাধ্য করার মানে হলো সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা শেখানোর সুযোগ মিস করা। এর পরিবর্তে, তারা বুঝতে পারে এমনভাবে আপনার অনুরোধের পেছনে যুক্তি ব্যাখ্যা করুন। উদাহরণস্বরূপ, ‘আমাদের এখন পার্ক ছেড়ে যেতে হবে কারণ অন্ধকার হয়ে আসছে, এবং আমাদের নিরাপদে বাড়ি ফিরতে হবে।’
শিশুকে কান্না থামাতে বলার মানে হলো তার আবেগকে উড়িয়ে দেয়া এবং অনুভূতি দমন করা। এর পরিবর্তে তাকে সান্ত্বনা এবং আশ্বাস দিন। তাকে আলিঙ্গন করুন এবং বলুন, ‘কান্না করা ঠিক আছে। আমি তোমার জন্য আছি’। মানসিক অভিব্যক্তি প্রকাশে শিশুকে সাহায্য করুন। এতে তাদের বেড়ে ওঠার পথ সহজ হবে।
আপনার সন্তানকে কখনোই অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করবেন না। হতে পারে সে তার বন্ধু বা আপনার কোনো আত্মীয়-স্বজনের সন্তান। তুলনা করার ফলে শিশুর মাঝে বিষণ্ণতা কাজ করবে। যার ফলে সৃষ্টি হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রতিটি শিশুই তাদের নিজস্ব কিছু প্রতিভা নিয়ে জন্মায়। অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা বা যে কোন কটু কথা স্বাভাবিকভাবেই তাদের ছোট মনে আঘাত আনে। এতে পরবর্তীতে তাদের মনে হিংসার জন্ম দেয়।
এস