দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানব শরীরের বৃহত্তম এবং ভারি অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃত। রক্তে রাসায়নিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করা এর প্রধান কাজ। এছাড়া এটি শরীরে বাইল নামের এক ধরণের পদার্থও বহন করে। যা যকৃত থেকে সব ধরণের বিষাক্ত বর্জ্য দূর করতে সাহায্য করে।
পেট ও অন্ত্র থেকে বের হওয়া রক্ত যকৃতের মধ্য দিয়েই পরিবাহিত হয়। লিভার এই রক্তকে প্রক্রিয়াকরণ করে শরীরের বাকি অংশের জন্য পুষ্টির যোগান দেয়। তাই একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য সবার আগে তার লিভার সুস্থ থাকা প্রয়োজন।
লিভার যদি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় তবে বিষাক্ত পদার্থগুলো বর্জ্য হয়ে বের হয়ে আসতে পারবে না, বরং সেখানেই থেকে যাবে। আর এতে শরীরে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। লিভারে কোন সমস্যা দেখা দিলে, তখন সেটি ধীরে ধীরে অকার্যকর হতে শুরু করে। রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস পায়। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। আপনার লিভার ব্যর্থ হলে আপনার মস্তিষ্কও ফুলে যেতে পারে।
কিন্তু কি করে বুঝবেন যে আপনার লিভার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক:
শরীরে যদি কিছু লক্ষণ দেখতে পান, তাহলে ধরে নিতে পারেন যে আপনার লিভার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। আর সেটি আপনার বর্তমান জীবনধারার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারছে না। সেক্ষেত্রে আপনার জীবনধারা পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ।
১. রক্তে চিনির পরিমাণ কমে যাওয়া
রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখা লিভারের প্রধান দায়িত্ব। যদি আপনার যকৃত গুরুতরভাবে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। খাবার খাওয়ার পর লিভার আপনার শরীরে গ্লুকোজ উৎপন্ন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ করে। কিন্তু যদি আপনার রক্তের মধ্যে গ্লুকোজ উৎপন্ন করার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে আপনার শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করবে। ত্রুটিযুক্ত লিভার রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় যা অত্যন্ত ক্লান্তি সৃষ্টি করে।
২. শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
লিভার আপনার লিঙ্গের হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, টেসটোসটাইন ও ইস্ট্রজেন মাত্রার ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। এছাড়া গুরুতর পিএমএস সিমটমস এবং লো লিবিডোও এর মত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি করতে পারে।
৩. অপ্রত্যাশিত মানসিক অস্থিরতা
লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে, সেটি তখন রক্তকে সঠিকভাবে ফিল্টার করতে পারে না। আর তখন পুরো শরীরে টক্সিন ঘুরপাক খেতে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, জীবাণু মস্তিষ্কেও পৌঁছে যায়। আর এটি যখন ঘটে তখন আপনার স্মৃতিভ্রম হতে শুরু করে। মনের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। অনেকক্ষেত্রে উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা গুরুতরভাবে যকৃতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আপনি যদি নিজের মধ্যে এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তাহলে দ্রুত একজন পেশাদার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
লিভার শরীরের জন্য যে পুষ্টি সরবরাহ করে তা সংক্রমণের সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। এটি বিষক্রিয়াগত সংক্রমণ প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। যদি আপনার লিভার তা করতে না পারে, তাহলে বুঝবেন আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।
৫. ঘুমের সমস্যা
অনেককেই ঘুমের মধ্যে প্রচণ্ড নাক ডাকেন। এই নাক ডাকার পেছনে আসল কারণ কি? কখনও ভেবে দেখেছেন? এর প্রধান কারণ হলো আপনি যে নাসিকা দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাসের চেষ্টা করছেন সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়া। যার ফলে আপনি নাক ডাকছেন। যদি ২ থেকে ৩ মিনিটের জন্য নাসিকা ব্লক হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লিভার সুস্থ রাখার উপায়
আপনার খাবার তালিকায় ফল ও সবজি যোগ করুন। লিভার সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজন। ফল এবং সবজি ছাড়া এমন কোন খাদ্য নেই যাতে এত বেশি ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। এক্ষেত্রে মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খেতে হবে।
নিয়মিত অত্যাধিক পরিমাণে অ্যালকোহল পান করার ফলেও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অ্যালকোহল পান করার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। এটি যকৃতের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। যা অপূরণীয়। তাই এখনই অ্যালকোহল পান করা কমিয়ে দিন। নিজে থেকে কমাতে না পারলে, প্রয়োজনে পেশাদার ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।
এস