দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রোজায় সেহরি খেতে ভোর রাতে উঠতে হয় বলে রাতে একটানা ঘুমানো যায় না। ফলে ঘুমের স্বাভাবিক নিয়মে পরিবর্তন আসে। তবে রোজার সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মতোই পর্যাপ্ত গভীর ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে বায়োলজিক্যাল ক্লক নামে এক প্রাকৃতিক ঘড়ি রয়েছে যাকে আমরা দেহঘড়ি বলে থাকি। আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে সার্কাডিয়ান রিদম। এই সার্কাডিয়ান রিদম আমাদের ঘুমানো এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বায়োলজিক্যাল ক্লক আমাদের ঘুমের সাধারণ নিয়মের সঙ্গে পরিচিত।
আমরা রাতে একটানা সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাই, আবার সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠি। ঘুমের সাইকেলে কোনো ধরনের পরিবর্তন এই সার্কাডিয়ান রিদমের ওপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে মুড সুইং মানে হঠাৎ মন ভালো হওয়া, আবার হঠাৎ মন খারাপ হয়ে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, মাথাব্যথা, মাইগ্রেনসহ নানা ধরনের শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। ফলে স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রোজায় আমরা ভোররাতে সেহরি খাওয়ার জন্য জেগে উঠি তারপর ফজর নামাজ পড়ে ঘুমাতে যাই। এসময় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার বেশি ঘুমানো যায় না। কারণ, দিনের কাজকর্ম এবং অফিসে যাবার তাড়া থাকে। অন্যদিকে তারাবি নামাজ পড়ে, রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প আড্ডা দিয়ে অনেকেই বেশ রাত করে ঘুমাতে যাই। ফলে সাত থেকে আট ঘণ্টার যে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন সেটা পূরণ হয় না। ফলে নানা ধরনের শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এতে রোজার সময় স্বাস্থ্য উপকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়।
রোজায় পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য তারাবির নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে গেলে ভালো হয়। আলো জালিয়ে ঘুমানো ঠিক নয়। অনেকে আলো জ্বালিয়ে ঘুমান। এতে কিন্তু সমস্যা হয়। সেহেরি করে নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ ঘুমানো যেতে পারে। দিনের বেলায় যদি সুযোগ থাকে তবে এক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিলে শরীর ভালো থাকবে। এভাবে ঘুমাতে পারলে শরীর ও মন দুইটাই ভালো থাকবে। সেই সঙ্গে খাবারেও কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। ১. সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন জাতীয় খাবার বর্জন করা উচিত। ২. ইফতার করার পরপরই বেশি চা খাওয়া উচিত নয়। ৩. ভাজা পোড়া বেশি খেলে অস্বস্তি হয়। ফলে ভালো ঘুম হয়না। ৪. একসঙ্গে বেশি খাবার খেলেও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। ৫. ঘুমানোর আগে ল্যাপটপ মোবাইল থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘুমের আগে এগুলো ব্যবহার করলে অনেক সময় ভালোভাবে ঘুম আসতে চায়না। ৬. ঘুমের পরিবেশে যেন শব্দ না হয় অথবা খুব বেশি গরম না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
রোজার সময় আমাদের দেহঘড়িতে পরিবর্তন হয়। কিন্তু এটি সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ এবং রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তাই রোজা রাখতে হবে। ঘুমের ব্যাপারে এসব পরামর্শ মেনে চললে অনেক সমস্যারই সমাধান হবে। তারপরও যদি কারও সমস্যা থাকে তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন।
কে