দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানুষের জীবনে ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের জীবনের ওপরেও প্রভাব ফেলে। বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া এবং নিশ্বাস নেওয়া যতটা জরুরি ঘুমও তেমনি। কিন্তু নানা কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে থাকে। তাই দম্পতিরা এর সমাধানের জন্য এক অনন্য পন্থা অবলম্বন করছেন। আর সেটা হলো - ‘স্লিপ ডিভোর্স’! এর মানে কিন্তু সঙ্গীকে পুরোপুরি ডিভোর্স দিয়ে দেওয়া নয়।
লন্ডনের কিছু দম্পতির মাঝে ‘স্লিপ ডিভোর্স’ নামে অদ্ভুত এক ট্রেন্ড চালু হয়েছে। বিবাহ বা সম্পর্কের বিচ্ছেদ ছাড়াই একই ছাদের নিচে আলাদা ঘরে ঘুমানোর এই ট্রেন্ডই স্লিপ ডিভোর্স।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিসিলিয়া নামে এক নারী জানান, করোনার মহামারির পর থেকে সঙ্গীর নাক ডাকার শব্দ এতটা অসহ্য লাগতো যে, কিছুতেই ঘুমাতে পারতেন না। তিনি সঙ্গীকে বারবার ধাক্কা দেন, যেন নাক ডাকা বন্ধ করেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয় না।
তারপর তারা যৌথ সিদ্ধান্ত নেন যে, সম্পর্কের বিচ্ছেদ ছাড়াই তারা আলাদা ঘরে ঘুমাবেন। এতে তিনি শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন।
বিশেষজ্ঞরা একটা বিষয়ে একমত যে যেসব দম্পতি আলাদা রুমে ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাদের জন্য কিছু সুবিধা আছে।
ডা. কলিয়ার বলেন, “সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যে এতে করে তারা একটা নিয়মিত এবং গভীর ঘুমের অভ্যাস গড়তে পারে। ভালো ঘুম সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য”।
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনও ব্যক্তি ঘুমাতে না পারে, এটা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে শুরু করে শরীরের অন্যান্য কার্যকারিতাকে ব্যহত করতে পারে। ঘুম না হলে আপনি দ্রুত রেগে যেতে পারেন এবং সেইসাথে অধৈর্যও হয়ে পড়তে পারেন। এমনকি, আপনার মাঝে এক ধরনের হতাশাও জন্ম নিতে পারে”।
এই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে স্লিপ ডিভোর্স একটি সুস্থ সম্পর্ক রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা জানি যে দম্পতিরা যখন পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারেন না, তখন তারা তর্কে জড়িয়ে পড়তে পারেন, খিটখিটে হয়ে যেতে পারেন এবং সহানুভূতি হারাতে পারেন”।
পালমোনোলজিস্ট এবং এএএসএম-এর মুখপাত্র সীমা খোসলা এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, “আমরা জানি যে ঘুম না হলে আপনার মেজাজ খারাপ হতে পারে। যারা ভালোভাবে ঘুমাতে পারে না, সঙ্গীর সঙ্গে তর্কে জড়ানোর সম্ভাবনা তাদের বেশি থাকে। কেউ আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, তার প্রতি আপনার বিরক্তি জন্মাতে পারে এবং এটি সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে”।
তিনি আরও বলেন, “রাতে ভালো ঘুম হওয়া শরীরের সুস্থতা ও খুশি থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই, কিছু দম্পতি নিজেদের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য আলাদা ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই”।
সিসিলিয়ার মনে করেন, তার বর্তমান সঙ্গী থেকে আলাদা ঘুমানোর সিদ্ধান্ত তার জীবনকে বদলে দিয়েছে। “ভালোভাবে ঘুমাতে পারা, বা বিছানায় অনেকখানি জায়গা পাওয়া, অন্যকে বিরক্ত না করে বিছানায় পাশ বদল করা; এগুলো অনেক বেশি আরামদায়ক”।
“সেইসাথে, আপনার সঙ্গীর সাথে সাথে আপনাকেও জেগে উঠতে হবে না। আপনি যখন চান, বা যখন আপনার প্রয়োজন, আপনি ঠিক তখনই ঘুম থেকে উঠতে পারবেন।”
এর সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো, আলাদা ঘুমাতে হলে একটি অতিরিক্ত বিছানা এবং রুম দরকার। কিন্তু অনেক দম্পতির জন্য এর ব্যবস্থা করা সম্ভব না।
এমনকি, এমন সিদ্ধান্তের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক দম্পতিই তাদের মধ্যকার ইন্টিমেসি, অর্থাৎ পারস্পরিক সংস্পর্শ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা করেন।
এ বিষয়ে সিসিলিয়া স্বীকার করে বলেন “কোথাও একটা গিয়ে আমার মনে হচ্ছে যে আমার সাথে আমার সঙ্গীর যে সম্পর্ক বা সংযোগ, সেখানে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে”, ।
“এতে সম্পর্ক, সান্নিধ্য বা পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু এটা ততটা গুরুতর কোনও সমস্যা না। আমার মনে হয়, অসুবিধার চেয়ে সুবিধার পরিমাণ অনেক বেশি”।
ডা. কলিয়ার এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, যারা পূর্ণ সময় ধরে কাজ করে, তারা শুধুমাত্র ঘুমানোর সময়ই তাদের সঙ্গীদের সংস্পর্শে আসেন। “সুতরাং, এর অন্যতম সমাধান হলো নিজেদের সংস্পর্শে আসার সময়টাকে আলোচনা করে নেওয়া।”
এস