দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মুসলমানদের জন্য পবিত্র মাস রমজান। এ সময় প্রত্যেক সজ্ঞান বালেগ মুসলমান নর-নারীর সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে পানাহার ও রোজাভঙ্গকারী সকল কাজ থেকে বিরত থাকেন। তাই এই সময়ে শরীর সুস্থ এবং শক্তিশালী রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কাজ আপনাকে রমজানে নিরাপদে রোজা রাখতে সাহায্য করবে। তাহলে রোজায় নিজেকে ভালো রাখতে এই ৫ কাজ করুন-
রমজান মাসে সুস্থ থেকে সব রোজা পালন করতে চাইলে, অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। অস্বাস্থ্যকর খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার কারণে অ্যাসিডিটি, গলাজ্বলা, বুকব্যথা, পেট ফাঁপা, রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
এ সময় প্রতিটি ক্যালোরি গণনা করা গুরুত্বপূর্ণ। ভাজাপোড়া এবং মিষ্টির মতো ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরিবর্তে ফল, শাক-সবজি এবং দানা শস্যের মতো পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন। এগুলো সারাদিন আপনার শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। সেহরি এবং ইফতারের সময় জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত সুষম খাবার খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিন।
রমজানে রোজা রেখেও ব্যায়াম করতে পারেন। এটি আপনার মেজাজ উন্নত করে চাপ কমাতে এবং শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। রোজা রেখে শরীরচর্চা করার সময় সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। হালকা শরীরচর্চার ফলে মস্তিষ্ক, স্নায়ুকোষ ও পেশি কোষগুলো সতেজ থাকে। এ কারণে রোজা রেখে শরীরচর্চা করলে শরীরে বাড়তি কিছু ইতিবাচক সুফল পাওয়া যায়। রোজা রাখা অবস্থায় শরীরের জন্য শক্তির জোগান দিতে গিয়ে চর্বির মজুত কমতে থাকে। এক্ষেত্রে শরীরচর্চা করলে এই চর্বি ক্ষয় আরও ভালোভাবে হতে পারে। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি চাইলে রমজান মাসে ওজন কমাতে পারবেন।

রোজার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো হাইড্রেটেড থাকা। রমজানে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। সেহরির সময় শেষ হওয়ার আগে কমপক্ষে ৪-৫ গ্লাস পানি পান করার লক্ষ্য রাখুন। আর ইফতারের পরে ৩-৪ গ্লাস পানি পান করুন ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে। এড়িয়ে চলুন কোমল পানীয় এবং এনার্জি ড্রিঙ্কের মতো চিনিযুক্ত পানীয়। কারণ, এগুলো আপনাকে ডিহাইড্রেট করতে আরও বেশি তৃষ্ণার্ত বোধ করাতে পারে।
রমজানে পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। প্রতি রাতে কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর লক্ষ্য রাখুন। প্রয়োজনে তাড়াতাড়ি বিছানায় যাওয়ার চেষ্টা করুন। ঘুমানোর আগে ক্যাফেইন এবং অন্যান্য উদ্দীপক এড়িয়ে চলুন। কারণ এগুলো আপনার ঘুম নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। যার ফলে আপনি পুরো দিন অলসতা ও ক্লান্ত বোধ করতে পারেন।
রমজানে নিজের যত্নে বিশেষ গুরুত্ব দিন। এই মাসটি মানসিক এবং শারীরিকভাবে একটি চ্যালেঞ্জিং সময়। তাই বিশ্রাম নেওয়া কিংবা নিজের ভালোলাগার কিছু কাজ করতে পারলে, তা আপনাকে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে। মানসিক চাপ কমাতে এবং সুস্থতা উন্নত করতে ধর্মীয় প্রার্থনা আপনাকে সাহায্য করবে।
এস