দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের স্মৃতি অনেক সময় মানুষকে আবার প্রাক্তনের কাছে ফিরে যেতে উৎসাহিত করে। পুরোনো অভ্যাস, একসঙ্গে কাটানো সময় কিংবা একাকিত্ব থেকে মনে হতে পারে, সম্পর্কটি আবার শুরু করা যায় কি না। তবে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিচ্ছেদের কারণ, দুজনের পরিবর্তন এবং নতুন করে সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছা নিয়ে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করা জরুরি।
প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা অস্বাভাবিক নয়। পরিচিত একজন মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্যে স্বস্তি খুঁজে পেতে পারেন অনেকে। তাঁর সঙ্গে জীবনের অনেকটা সময় কাটানোর ফলে নতুন করে নিজের অভ্যাস, ভয়, দুর্বলতা কিংবা পছন্দ-অপছন্দ বোঝানোর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু পরিচিত বলেই সেই সম্পর্ক আবার নিরাপদ ও সুখের হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
অনেক সময় ভালোবাসার চেয়ে একাকিত্ব, পুরোনো স্মৃতি কিংবা অপরাধবোধ মানুষকে অতীতের সম্পর্কে ফিরতে প্রভাবিত করে। কখনো মনে হয়, এবার হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তবে নতুন করে সম্পর্ক শুরু করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেন সম্পর্কটি ভেঙেছিল এবং সেই পরিস্থিতি এখন বদলেছে কি না, তা বোঝা।
প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করুন, সম্পর্কটি কেন ভেঙেছিল? ভুল–বোঝাবুঝি, দূরত্ব, অপরিণত আচরণ কিংবা জীবনের প্রতিকূল সময়ের কারণে সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটলে পরিস্থিতি বদলানোর পর নতুন করে ভাবার সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু বিচ্ছেদের কারণ যদি হয় অসম্মান, প্রতারণা, নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা, বারবার মিথ্যা বলা কিংবা মানসিক নির্যাতন, তাহলে শুধু পুরোনো ভালোবাসার স্মৃতি দিয়ে সম্পর্ককে নিরাপদ করে তোলা সম্ভব নয়। সম্পর্ক ভাঙার পেছনে থাকা সমস্যাগুলো বদলেছে কি না, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় প্রশ্ন, দুজন কি বদলেছেন? সময়ের সঙ্গে মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারে, যোগাযোগের ধরন বদলাতে শেখে এবং অন্যের সীমারেখার প্রতি সচেতন হয়। তবে সময় পেরিয়ে গেলেই মানুষের আচরণ বদলে যায় না। প্রাক্তন সত্যিই বদলেছেন কি না, তা বোঝার জন্য কথার চেয়ে আচরণে পরিবর্তনের প্রমাণ খুঁজতে হবে।
তৃতীয়ত, আপনিও কি বদলেছেন? পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে গেলে শুধু অন্য ব্যক্তির পরিবর্তন প্রত্যাশা করলেই চলে না। নিজের আচরণ, প্রত্যাশা, ভুল এবং সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। দুজনের কেউই যদি আগের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ না করেন, তাহলে একই দ্বন্দ্ব আবার ফিরে আসতে পারে।
চতুর্থ প্রশ্ন, আপনি কি মানুষটিকে মিস করছেন, নাকি তাঁর সঙ্গে কাটানো জীবনটিকে? একসঙ্গে রাত জেগে কথা বলা, হঠাৎ ফোন পাওয়া, কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা বিপদের সময় পাশে কাউকে পাওয়ার স্মৃতি মানুষকে আবেগপ্রবণ করে তুলতে পারে। তখন মনে হতে পারে, প্রাক্তনকে ফিরে পেলেই সেই অনুভূতিগুলো আবার ফিরে আসবে। কিন্তু মানুষটিকে ফিরে পাওয়ার ইচ্ছা আর তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এক নয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারলে নিজের অনুভূতি বুঝতে সুবিধা হবে।
পঞ্চমত, একাকিত্বের সময়ে কি এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? রাতে পুরোনো স্মৃতি বেশি মনে পড়া কিংবা জীবনে নতুন কোনো সম্পর্ক না থাকায় প্রাক্তনের প্রতি টান অনুভব করা অস্বাভাবিক নয়। তবে একাকিত্ব ও ভালোবাসা এক বিষয় নয়। একাকিত্বের মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত সাময়িক স্বস্তি দিলেও পুরোনো সমস্যাগুলো আবার ফিরিয়ে আনতে পারে। তাই কিছুটা সময় নিয়ে ভেবে দেখা জরুরি, কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পরও একই কারণে সেই মানুষটির কাছে ফিরতে চাইবেন কি না।
ষষ্ঠ প্রশ্ন, দুজনেরই কি সম্পর্কে ফেরার ইচ্ছা আছে? একটি সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে উভয়ের সম্মতি ও আগ্রহ প্রয়োজন। আপনি ফিরতে চাইলেও অন্য ব্যক্তি হয়তো অতীতকে সম্মান করে সামনে এগিয়ে যেতে চান। তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করা জরুরি। আর দুজনেই ফিরতে চাইলে শুধু ভালোবাসার কথা বললেই হবে না; বরং আগের সমস্যাগুলো কীভাবে সামলাবেন, কোন সীমারেখা বজায় রাখবেন এবং মতবিরোধ হলে কীভাবে সমাধান করবেন, তা নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করতে হবে।
পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। আগে একসঙ্গে ছিলেন বলে সবকিছু আগের মতোই থাকবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। যে সম্পর্ক একবার ভেঙেছে, সেটিকে আবার গড়ে তুলতে হলে অতীতের ভুলগুলো বোঝা, নিজের দায় স্বীকার করা এবং নতুনভাবে এগোনোর পরিকল্পনা করা জরুরি। পুরোনো অভিমান ও বিরোধ বারবার সামনে এনে যেমন নতুন শুরু করা যায় না, তেমনি অতীতের সমস্যাগুলো উপেক্ষা করেও সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন।
তাই প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবেগের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। সম্পর্কটি কেন ভেঙেছিল, কী বদলেছে এবং দুজনেই আগের চেয়ে ভালোভাবে সম্পর্কটি গড়ে তুলতে প্রস্তুত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরই সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।
এমএম/