দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ক্যানসারের লক্ষণ আগে থেকেই বোঝা যায় না, এটি ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাঁধে। আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণে এর ঝুঁকি আরও বাড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না যে ক্যানসার সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যায়, তবে ৫টি অভ্যাস পরিবর্তন করলেই ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা অনেকটা কমানো সম্ভব।
ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান
অনেকের পক্ষেই হয়তো ধূমপান একেবারে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এটি কমিয়ে ফেলতে হবে। দিনে ৬টি সিগারেট খেলে, সেই সংখ্যা কমিয়ে ২টিতে আনতে হবে। তামাক ও সিগারেটের ধোঁয়ায় অন্তত ৭০টিরও বেশি কার্সিনোজেন (ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান) থাকে, যেমন— বেঞ্জিন, ফরম্যালডিহাইড এবং নাইট্রোসামিন যা কোষের ডিএনএ গঠনে বাধা দেয়, জিনগত পরিবর্তনও ঘটায়। ফলে ক্যানসারের কোষ জন্ম নেওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। সেজন্য ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলা উচিত।
ঘুমানোর নিয়ম
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলে, রাত ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া শরীরের বায়োলজিকাল ক্লকের (জৈবিক ঘড়ি) জন্য ভালো। কারণ রাত ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে শরীরে ডিএনএ মেরামতের কাজ চলে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং রাতে ঘুমানোর সময় ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখাই ভালো। এমনকি মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের আলোও বন্ধ রাখতে হবে। সামান্য মাত্রায় নীল আলো জ্বালানো থাকলেও শরীরের মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। এই মেলাটোনিন হরমোনই যে কোনো টিউমার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ঠেকাতে পারে।
খাবার খাওয়ার সময়
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা বা কম করেও ১০ ঘণ্টা পেট ফাঁকা রাখতে হবে। রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করে পরদিন সকাল ৮টা বা ১০টায় সকালের নাস্তা করার পরামর্শ দেন গবেষকরা। ওই সময়ে শরীরে ‘অটো-ক্লিনিং’ নামের একটি প্রক্রিয়া চলে, যেই প্রক্রিয়ায় শরীর নিজেই কোষে জমে থাকা টক্সিন, ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদানগুলো ধ্বংস করে ফেলে।
প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো
প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রে গরম খাবার না খেলে, নন-স্টিক থালা-বাসনের জায়গায় লোহা বা স্টেইনলেস স্টিলের থালা-বাসন ব্যবহার করলে ও প্লাস্টিকের ব্যাগ বা টিফিন বক্সের ব্যবহার কমালে ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে যাবে। প্লাস্টিক এবং নন-স্টিক থালা-বাসনে বিসফেনল-এ, থ্যালেট, পিএফএএস-এর মতো রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা হরমোনের নিয়মিত কাজে অনিয়ম ঘটায়, কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে সহায়তা করে। এসব রাসায়নিক পদার্থের ফলে থেকে স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় ও থাইরয়েডের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
অ্যালকোহলের মাত্রা কমানো
অ্যালকোহল যখন শরীরে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে যায়, তখন তা ‘অ্যাসিটালডিহাইড’ নামে বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগে পরিণত হয়। এটি ডিএনএ প্রোটিনের মারাত্মক ক্ষতি করে। তা ছাড়া, অ্যালকোহল শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। অ্যালকোহল ত্যাগ করলে বা মাত্রা সীমিত করলে লিভার, মুখ ও গলা, খাদ্যনালি, অগ্ন্যাশয় এবং স্তন ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়।
কেএম