দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে রায় লেখা অনুচিত। রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকের নিজের বুদ্ধি-বিবেক ও চিন্তাশক্তির প্রয়োগ জরুরি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁর অভিজ্ঞতায় রায় লেখার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মামলার বিষয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বা ঘটনা বুঝতে হবে। এরপর সেই তথ্যের ওপর প্রযোজ্য আইন ও আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করতে হবে। সবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকের নিজের বিবেককে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, এই বিবেক এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বিবেক মানুষের নিজস্ব বিষয়, যা তাঁর চিন্তাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষ যখন নিজের চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে। তাই রায় দেওয়ার সময় বিচারকদের নিজেদের বুদ্ধি-বিবেক ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এআই ব্যবহারের ঝুঁকির উদাহরণ তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, সম্প্রতি ইংল্যান্ডে এআই ব্যবহার করে একটি মামলার রায় লেখা হয়েছিল। পরে দেখা যায়, ওই রায়ে এআই যে বিচারিক সিদ্ধান্তের রেফারেন্স দিয়েছিল, সেই রায়ের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।
তিনি বলেন, এ কারণে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রযুক্তিটির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর অপব্যবহার যেন না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন ড. মোহাম্মদ একরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।
স্বাগত বক্তব্যে তাসনোভা শেলী বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে এআই ব্যবহার করতে হবে। এআই ব্যবহারের কারণে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য যেন ভুলে যাওয়া না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
এমএস/