দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ হলো। এই ১৮০ দিনে সরকারের বিভিন্ন খাতের উদ্যোগ, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে একটি তথ্যনির্ভর ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
এতে বিচারব্যবস্থার সংস্কার, মামলার জট কমানো, ডিজিটাল বিচারব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের প্রকাশিত ই-বুকে বলা হয়েছে, বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য বিচার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে আইনগত সহায়তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা চালু, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিচারিক অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ই-বুকের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৬ লাখ মামলার জট রয়েছে। এই বিপুল মামলাজট কমাতে বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং বিশেষায়িত আদালতের কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার।
মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়াতেও নেওয়া হয়েছে নতুন উদ্যোগ। এ লক্ষ্যে লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল পাসের মাধ্যমে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হেল্পলাইনের মাধ্যমে প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে আইনগত সহায়তা সহজলভ্য করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
বিচারব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরেও গত ছয় মাসে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। অধস্তন আদালতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ই-বেইল ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর ফলে জামিনসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং কারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় আরও দ্রুত ও কার্যকর হচ্ছে বলে ই-বুকে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া অনুমোদিত ই-মেইলের মাধ্যমে সমন জারির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের কার্যক্রম এবং মামলার জট পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য, এসব উদ্যোগ বিচার প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ সহজ করবে।
বিচারক নিয়োগ এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিষয়টিও ই-বুকে গুরুত্ব পেয়েছে। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে অভিন্ন ও স্বচ্ছ মানদণ্ড নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক ও বিচারসংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে সাংবিধানিক ওম্বাডসম্যান বা ন্যায়পাল কার্যকর করা এবং বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত আদালত বা বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত এই ই-বুকে বলা হয়েছে, বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন কেবল প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিচারপ্রার্থী মানুষের সময় ও ব্যয় কমানো, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার সহজ করাই এসব সংস্কার উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সরকারের মতে, প্রথম ছয় মাসে নেওয়া এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে একটি আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করবে।
কে