দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন আরও ছয়জন।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। এরপর আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। মামলাটির ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে।
সাক্ষীরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো.আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলা চরফ্যাশনের সাব- রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।
দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিলে বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। হিসাবে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।
তবে দুদক-এর তদন্তে বেনজীরের নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৬২২ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
এছাড়া তার নামে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার প্রমাণ পেয়েছে দুদক, যা তার ঘোষণার তুলনায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি।
দুদক-এর হিসাবে, বেনজীর আহমেদ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ পাওয়ায় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদক-এর উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদক-এর উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।
চার্জশিটে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৩ মে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
/অ