দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভয়ভীতি, হুমকিধামকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পক্ষে মামলাটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক পরিচালক লুৎফর রহমান।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তাঁর সাবেক পিএস ফারজানা আলম, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি মকবুল আহমেদ খান, ওয়াসিউজ্জমান লেলিন, এম এইচ খান মঞ্জু, মশিউর রহমান, ইমরান মিয়া, মেহেদি হাসান, ইমরান, রফিকুল ইসলাম, মনির হোসেন, মুন্সি আব্দুর রহমান ও মামুন ডাকুয়া।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে অনধিকার প্রবেশ করে বাদী ও সাক্ষীদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করে আসছেন। পরস্পরের যোগসাজশে তাঁরা বাদী ও সাক্ষীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দিয়ে আসছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ইইউবির সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। ফারজানা আলম ও সাবেক ভিসি মকবুল আহমেদ খান তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার। ওয়াসিউজ্জমান লেলিন কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি এবং অন্য আসামিরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদী লুৎফর রহমান জানান, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে বহিরাগতদের নিয়ে ইইউবি দখলের চেষ্টা করছেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদ খান। গত ২২ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ইইউবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ে প্রবেশ করে তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান তানিমের কক্ষের সামনে থাকা নামফলক খুলে নিয়ে যান। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি টানা তিন দিন হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান জানান, ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ সিভিল রিট পিটিশন নং ৪০৩৫/২৫ মামলার রায়ে ড. মকবুল আহমেদ খানকে একা ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে একজন সহযোগী নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। তবে দলবল বা বহিরাগত নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং নির্দেশনা অমান্য করলে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই রায় উপেক্ষা করেই তিনি বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করেন।
তিনি আরও জানান, ২২ জানুয়ারি দুপুরে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীসহ একদল বহিরাগত ক্যাম্পাসের সামনে উপস্থিত হয়। পরে বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সন্ত্রাসী সান্তনু হোসেন রুবেল সেখানে যোগ দেন। একপর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ দুই দিনের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। ঘটনার পর দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় এবং আদালত সেটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এমএস/